জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছবিঃ আর্কাইভ
মেলবোর্ন, ১১ অক্টোবর- বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সংবিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ বিলুপ্তির প্রস্তাব বিবেচনা করছে, যা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শনকে বাধ্যতামূলক করে। কমিশন এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে শনিবারের মধ্যে লিখিত মতামত চেয়েছে।
ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের নামে গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) এই সংক্রান্ত একটি চিঠি রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে কমিশন তাদের প্রস্তাবিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ সংবিধানের এই অনুচ্ছেদটি অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
সংবিধানের ৪ (ক) অনুচ্ছেদে বলা আছে: “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয় এবং সকল সরকারী ও আধা-সরকারী অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের প্রধান ও শাখা কার্যালয়, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনসমূহে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করতে হবে।”
চিঠিতে কমিশন জানায়, রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহের সঙ্গে ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নবিষয়ক বৈঠক শেষ হয়েছে। এই পর্যায়ে কমিশন বিদ্যমান সংবিধানের ‘অনুচ্ছেদ ৪ক’ বিলুপ্তির প্রস্তাব সনদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক। ছবিঃ সংগৃহীত
এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর লিখিত মতামত আজ, ১১ অক্টোবর শনিবার বিকেল চারটার মধ্যে কমিশন বরাবর অথবা কমিশনের ই-মেইল বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার কমিশন থেকে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে এই বিধানটি যুক্ত করেছিল। এই অনুচ্ছেদের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি একটি নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণের সাংবিধানিক বাধ্যতা আরোপ করা হয়।