দুবাইয়ে ভারপ্রাপ্ত আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব। ছবি: ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
মেলবোর্ন, ১২ অক্টোবর- আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দ্রুত ঘনিষ্ঠ হচ্ছে—এমন ইঙ্গিত মিলেছে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায়। দুই দেশের কর্মকর্তাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং দূতাবাস পুনরায় চালুর উদ্যোগকে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত অঙ্গনে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি পাকিস্তানের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সম্প্রতি দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির মধ্যে এক বৈঠক হয়। বৈঠকে দুই দেশ দূতাবাস পুনরায় চালু, বাণিজ্য ও মানবিক সহায়তা বাড়ানো এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা জোরদার নিয়ে আলোচনা করে। তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, আফগানিস্তান ভারতকে “গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার” হিসেবে বিবেচনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ পাকিস্তানের জন্য এক বড় ধাক্কা। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই আফগানিস্তানে ইসলামাবাদের প্রভাব ছিল প্রবল। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পরও পাকিস্তান নিজেকে তাদের প্রধান মিত্র হিসেবে দেখত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তালেবান ও পাকিস্তানের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যুতে।
ভারত এখন আফগানিস্তানে বাণিজ্য, অবকাঠামো ও আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্প নিয়ে নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিশেষত ইরানের চাবহার বন্দর ব্যবহার করে আফগানিস্তান হয়ে মধ্য এশিয়ার বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা পাকিস্তানের জন্য অর্থনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
ইসলামাবাদের নীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের এই তৎপরতা পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী কৌশলগত গভীরতা (Strategic Depth) নীতিকে দুর্বল করে দিতে পারে। একই সঙ্গে, আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা পাকিস্তানের সীমান্ত নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকৌশলেও নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।
তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের উদ্দেশ্য আফগানিস্তানে “স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা”, কোনো দেশের বিরুদ্ধে কৌশল নয়। তবুও, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, তালেবান সরকারের সঙ্গে ভারতের এই সম্পর্কোন্নয়ন দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যে নতুন অধ্যায় খুলে দেবে, যার প্রভাব পড়বে গোটা অঞ্চলে।
সূত্র: আল জাজিরা।