মেলবোর্ন, ১৫ অক্টোবর- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস যদি নিজে অস্ত্র না ছাড়ে তবে “আমরাই তাদের নিরস্ত্র করব,” এবং এটি “খুব দ্রুত” এবং সম্ভবত সহিংসভাবে ঘটতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য তার মধ্যপ্রাচ্য সফরের একদিন পর এসেছে যেখানে গাজায় যুদ্ধবিরতির ওপর একটি চুক্তি নিয়ে উদযাপন হয়েছে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন যে তিনি হামাসকে বলেছেন “তোমরা নিরস্ত্র হবে” এবং তিনি দাবি করেছেন যে এই বার্তাটি তিনি সরাসরি না করে “আমার লোকদের মাধ্যমে” পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেননি কে বা কারা বাস্তবে হামাসকে নিরস্ত্র করার কাজটি করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ থাকবে কিনা সে বিষয়ে সরাসরি ব্যাখ্যা দেননি।
চুক্তির ফলশ্রুতিতে সোমবার নিষ্কৃত ২০ জন জীবিত জিম্মি দেশে ফিরেছে, তবে নিহতদের দেহের পুরো তালিকা এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি – কয়েকটি পালিশতানি মরদেহ ফেরত দেওয়ার পরও অনেক অনুসন্ধান ও দাবী মেলে না। আন্তর্জাতিক লাল ক্রস ও আইনি সূত্রে জানান, কিছু মরদেহ ইতোমধ্যেই হস্তান্তর করা হয়েছে, কিন্তু মোট ফেরত হওয়া মৃতদেহ ও জীবিত বন্দী-সংক্রান্ত হিসাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ইসরায়েলের উগ্র-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতারাম বেন গাভির হুঁশিয়ারি এসেছে – যদি হামাস অবশিষ্ট মরদেহ ফেরত না দেয়, তাহলে গাজায় ত্রাণ ও সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে এমনই সতর্ক বার্তা তিনি দিয়েছেন। এ সতর্কতা ও হুমকি চুক্তি বাস্তবায়নকে জটিল করেছে।
ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যাত্রাকালে “নতুন মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহাসিক ভোর” ঘোষণা করেন এবং এক জয়েন্ট ঘোষণায় চুক্তি স্বাক্ষর করেন তবে চুক্তির শর্তাবলীর বাস্তবায়ন এখনো অনিশ্চিত। বিশেষ করে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ, মৃতদেহ ফেরত দেওয়া, এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ এগুলো বাস্তবে কিভাবে কার্যকর হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি হামাস স্বতঃপ্রণোদিতভাবে অস্ত্র ছাড়তে রাজি না হয় তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক কূটনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক বিকল্প যেসব বিকল্প ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন ওপর আলোচনা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মানবাধিকার ও সাথী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উদ্বেগও বাড়ছে কারণ গাজার সাধারণ মানুষের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ট্রাম্প বলেছেন হামাস যদি নিরস্ত্র না হয়, “আমরাই তাদের নিরস্ত্র করব” এবং কাজটি দ্রুত-সম্ভবত সহিংসভাবে হবে প্রেসিডেন্টের এই ভাষ্য মিডিয়ায় প্রচুরভাবে ছড়িয়েছে।
সোমবার ২০ জন জীবিত জিম্মি মুক্তি পেয়েছে; কিছু মৃতদেহ ফেরত এসেছে, কিন্তু পুরো তালিকা মেটায়নি। ইসরায়েল হামাসকে মরদেহ ফেরত না দিলে গাজার ত্রাণ কমিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে এতে মানবিক পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত।
এই মুহূর্তে চূড়ান্ত শান্তি ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ডিলের শর্তগুলো কার্যকরভাবে সম্পন্ন হওয়া দরকার বিশেষ করে হামাসের অস্ত্রবর্জন ও সকল মৃতদেহ-সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন নিষ্পত্তি না হলে চুক্তি দুর্বল থাকবে। ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কিভাবে পরিবর্তিত হবে তা নজরদারির বিষয়