মেলবোর্ন, ১৬ অক্টোবর- গাজা যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হামাস যে চারটি ইসরায়েলি নাগরিকের মরদেহ ফেরত দিয়েছে, তার মধ্যে একটি মরদেহের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (IDF) বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তিনটি মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় মিলে গেলেও চতুর্থটির পরিচয় অস্পষ্ট রয়ে গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন,“আমরা তিনজন নিহত জিম্মির পরিচয় নিশ্চিত করেছি, তবে একটি মরদেহের পরিচয় এখনও যাচাই করা যাচ্ছে না। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল এ নিয়ে কাজ করছে।”
বিবৃতিতে বলা হয়, মরদেহগুলো মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ গাজা থেকে হস্তান্তর করা হয় এবং সেগুলো প্রথমে সামরিক মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয় ডিএনএ পরীক্ষা ও আনুষ্ঠানিক সনাক্তকরণের জন্য।
হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্প্রতি যে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি-বিনিময় চুক্তি হয়েছে, তার অংশ হিসেবে এই চারটি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, হামাস ধাপে ধাপে মোট ২৪টি মরদেহ ফেরত দেবে এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েল মানবিক সহায়তা প্রবেশে কিছুটা ছাড় দেবে।
এ পর্যন্ত হামাস ৪টি মরদেহ ও ২০ জন জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে, তবে ইসরায়েলি সরকার জানিয়েছে, “অবশিষ্ট মরদেহ ও বন্দিদের ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত আলোচনায় পূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব নয়।”
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির বলেছেন,“যদি হামাস অবশিষ্ট মরদেহ ও বন্দিদের ফেরত না দেয়, তাহলে গাজায় মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম পুনর্বিবেচনা করা হবে।”
এদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেন,“আমরা আমাদের প্রতিটি নাগরিককে ফিরিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কেউ অবহেলিত থাকবে না।”
জাতিসংঘ এবং রেড ক্রস ইসরায়েল ও হামাস উভয়কেই মানবিক চুক্তি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। রেড ক্রসের মুখপাত্র বলেন,
“বন্দি ও নিহতদের মরদেহ ফেরত দেওয়া মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জরুরি। উভয় পক্ষের উচিত এই প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখা।”
গত বছর অক্টোবরে হামাসের আকস্মিক হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ এখনো থামেনি। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩৫,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি ও প্রায় ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির এই সাম্প্রতিক ধাপকে অনেক বিশ্লেষক “সীমিত অগ্রগতি” হিসেবে দেখছেন, তবে পরিস্থিতি এখনও নাজুক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামাসের কাছ থেকে মরদেহ হস্তান্তর একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হলেও পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এটি ইসরায়েলি জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি ফেরত প্রক্রিয়া আদৌ কতটা কার্যকর হচ্ছে।