মেলবোর্ন, ১৭ অক্টোবর- চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে লাগা একটি ব্যাপক আগুন প্রায় সাড়ে ১৭ ঘণ্টা পরে শুক্রবার সকাল ৭:২৫ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রের বরাত অনুযায়ী, আগুনটি সিইপিজেডের একটি বহুতলায় (সাত/আট তলা) অবস্থিত কারখানার উর্ধ্বতন তলায় গুদাম বা স্টোরেজ থেকে শুরু হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে নিচের তলাগুলোতে, ফলে বহুতল ভবন জুড়ে ধোঁয়া ও তাপের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। প্রাথমিকভাবে আগুন সাড়ে দুইটার থেকে সাড়ে তিনটার দিকে লক্ষ্য করা যায়।
ফায়ার সার্ভিস কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠায়; রিপোর্টভিত্তিক সংখ্যা ভিন্ন কিছু সংবাদে ১৫–১৭ ইউনিট, আবার অন্য কিছুগুলোতে ২৫ ইউনিট পর্যন্ত কাজ করেছে। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস, নেভি ও আর্মি সহযোগিতায় তৎপরতা চালানো হয়; আশপাশের কারখানা ও ভবনগুলোকে ঠাণ্ডা রাখার জন্য পানি ছিটানো ও অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়।
এখন পর্যন্ত সরকারি সূত্রে কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আন্দাজযোগ্য হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি; তবে কয়েকটি সূত্র বলছে ঘটনাস্থলে কর্মীদের দেরিতে বের হওয়ার কারণে আতঙ্ক ও সামান্য আহতের খবর পাওয়া গেছে আআ তদন্ত ও আরেকটু নিরীক্ষণের পর নিখুঁত তথ্য জানা যাবে। আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে শক্ত কাঁটাখোঁচা অবস্থা শেষ করতে আরও সময় লাগবে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।
আগুনের তাপ ও ধোঁয়া আশপাশের অন্যান্য কারখানায় প্রভাব ফেলায় সেগুলোও আংশিকভাবে বন্ধ রাখা বা কাজের পরিবেশ শীতল রাখতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেরাই ভিতরে পানি ছিটিয়ে তাপ কমানোর চেষ্টা করেছেন। সড়ক ও যান চলাচল কিছু সময় বন্ধ থাকায় এলাকায় দুর্ভোগ চালিয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিইপিজেড কর্তৃপক্ষ জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও পুরোপুরি নির্বাপণ ও ভবন পরিদর্শন করতে আরও সময় লাগবে। ভবনের অবকাঠামো ও গুদামের তৈরি মালামালের কারণে পুনরায় আগুন জ্বালার ঝুঁকি থাকায় পূর্ণাঙ্গ টিম আগুন নিভানো ও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দাবাগুলো তদন্তের জন্য ঘটনাস্থল সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
এটি সিইপিজেড অঞ্চলে ঘটিত সাম্প্রতিক বড় ধরণের আগুন-বিষয়ক ঘটনার মধ্যে অন্যতম; ফায়ার সার্ভিস সূত্রে বলা হয়েছে যে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তত্ত্বাবধায়ক ও আগুন নিরোধক ব্যবস্থার তদারকি জোরদার করা হবে। তদন্তে অগ্নিসংযোগ/বিদ্যুৎ আর্ক/মানবীয় ত্রুটি কোনটি প্রাথমিক কারণ ছিল, তা নির্ধারণ করা হবে।