মেলবোর্ন, ১৭ অক্টোবর: নিউজিল্যান্ড সরকার আজ ঘোষণা করেছে তারা জাতিসংঘের পুনঃস্থাপিত নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী ইরানের ওপর পুনরায় (re-impose) নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বলেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ইরানের পারমাণবিক প্রবিধান পালন না করার অভিযোগ ও পরিকল্পিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের উচ্চ কার্যক্রমের কারণে। নিষেধাজ্ঞাগুলো ১৮ অক্টোবর ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে।
নিউজিল্যান্ডের নতুন বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে –
- নির্বাচিত ব্যক্তিদের সম্পদ (asset freeze) ও ভ্রমণ নির্বন্ধ (travel bans),
- নির্দিষ্ট পারমাণবিক ও সামরিক সরঞ্জাম, অংশ ও প্রযুক্তির আমদানি–রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা, এবং
- নিউ জিল্যান্ডের নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের ইরান সম্পর্কিত লেনদেনে সতর্কতা ও নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশ। এছাড়া, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্যে জড়িত নাগরিকদের জন্য একটি আবশ্যকীয় নিবন্ধন (compulsory registration) ব্যবস্থা চালু করা হবে বলে মন্ত্রকের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
ইউরোপীয় শক্তিগুলো বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালের শেষে JCPOA (২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি) সম্পর্কিত ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া চালু করে এবং জাতিসংঘের ওপর ভিত্তি করে পূর্বের নিষেধাজ্ঞা পুনরায় কার্যকর করার পথে যায়। নিউজিল্যান্ড এ উদ্যোগকে অনুসরণ করছে বলে সরকার জানিয়েছে; মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে আন্তর্জাতিক পরিদর্শক সংস্থা IAEA-র সাথে পূর্ণ সহযোগিতায় ফেরানো এবং পারমাণবিক অস্ত্রায়নের ঝুঁকি বন্ধ করা।
উইনস্টন পিটার্স বলেছেন, নিউজিল্যান্ড “পারমাণবিক প্রসার রোধে” আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার পূর্ণ সমর্থন জানায় এবং ইরানকে পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল। একই সঙ্গে ওয়েলিংটন নাগরিকদের সতর্কভাবে ব্যবসায় ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে।
ইরান তাৎক্ষণিকভাবে নয়া নিষেধাজ্ঞা নিন্দা জানায় এবং কিছু ক্ষেত্রে কূটনৈতিক ক্ষমতাপ্রতিনিধিদের প্রত্যাহারের মতো কড়া পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে ইরান এই প্রক্রিয়াকে “একপক্ষীয় ও অবৈধ” হিসেবে অভিহিত করেছে। একই সময়ে ইউরোপীয় শক্তিগুলি বলছেন যে স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়াটি আইনগতভাবে বৈধ ছিল কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াও JCPOA-র পুনরায় কার্যকরতার শর্তভঙ্গের বিরুদ্ধে সক্রিয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলছেন নতুন নিষেধাজ্ঞা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো দ্রুত কাজে লাগানো না হলে পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নিউজিল্যান্ড মন্ত্রণালয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি ও প্রশাসনিক নির্দেশনা জারির কথা জানিয়েছে যাতে পরিস্থিতি অনুযায়ী কোম্পানিগুলো তাদের ঝুঁকি-প্রশাসন আপডেট করে। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকরীয় নিবন্ধন ব্যবস্থা বিদেশি লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়াবে বলে বলা হয়েছে তবে একই সঙ্গে এটি নিয়ম অনুসারে কিছু ব্যবসার ক্ষেত্রে কার্যক্রম জটিল করে তুলতে পারে।
নিয়মিত নিরাপত্তা ও পারমাণবিক নীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ ও IAEA-র সাথে সীমিত-বা বন্ধ সহযোগিতা দেশে-বিদেশে উদ্বিগ্নতা বাড়িয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে ব্যবহার করা হয় কিন্তু একই সঙ্গে এর অর্থ হল ইরানকে আংশিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজার ও প্রযুক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন করা, যা দীর্ঘমেয়াদে এমন দেশকে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ায় ঠেলে দিতে পারে। বিশ্লেষকরা কূটনৈতিক পথ খোলা রেখে আলোচনাকেই ঝুঁকি হ্রাস করার কার্যকর উপায় মনে করেন।
সূত্র : আলঅ্যারাবিয়া।