পেলেটে ঝাঁঝরা মুখ, তবু অনুশোচনা নেই: হাসপাতাল থেকেই যন্তর মন্তরে ফেরার ঘোষণা
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় আহত হয়েও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন ২৫ বছর…
মেলবোর্ন, ১৮ অক্টোবর- বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর এক বড় ধরনের মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন চললেও পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) কর্তৃক ২৪ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর।
আইসিটি এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন ও গোপন আটক রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এতে সেনাবাহিনীর ভেতরে চরম হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তার কর্মকর্তাদের চাপের মুখে ভারতের ও সৌদি আরবের নির্ধারিত সফর বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ছবি: আইএসপিআরের সৌজন্যে
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পুরো সংকটের মূলে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তারা নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের ওপর চাপ দিচ্ছে যেন আইসিটিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করা হয়। অথচ এই ট্রাইব্যুনালটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শেখ হাসিনা, যিনি গত আগস্টে এক গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। শুরুতে এই ট্রাইব্যুনালের কাজ ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা। কিন্তু এখন এটি শেখ হাসিনার আমলে সংঘটিত গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের মতো অভিযোগের বিচার করছে।
সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, বর্তমানে আইসিটির প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম অতীতে জামায়াত নেতাদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কাজ করতেন। এখন তিনি সেই জামায়াতের প্রতিশোধমূলক কাজ সম্পন্ন করছেন যাদের কিছু নেতা যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছিলেন। একইসঙ্গে, আইসিটি এখন শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত সেনা ও সরকারি কর্মকর্তাদেরও টার্গেট করছে।
এই প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনী মূলত বলির পাঁঠা হয়ে উঠেছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানাগুলো বাহিনীর অভ্যন্তরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ-পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমানে দেশের সবচেয়ে স্থিতিশীল ও সংযত প্রতিষ্ঠান হলো সেনাবাহিনী। তারা অসংযত পরিস্থিতিতেও সংবিধান মেনে চলেছে এবং সহিংসতা দমনে আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিয়েছে। শেখ হাসিনার পতনের পর দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনীর পক্ষে ক্ষমতা দখল করা কঠিন ছিল না। তবুও তারা সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে নির্বাচন পর্যন্ত পরিস্থিতি ।
কিন্তু সেনাবাহিনী ধারণা করেনি যে ছাত্রদের সমর্থনে উঠে আসা মুহাম্মদ ইউনূস পরবর্তীতে জামায়াতের ক্রীড়নক হয়ে পড়বেন। জামায়াত চায়, যে কোনো মূল্যে বর্তমান সেনাবাহিনীকে সরিয়ে দিয়ে তথাকথিত “ইসলামিক রেভল্যুশন আর্মি (IRA)” প্রতিষ্ঠা করা হোক। সেনাবাহিনী এই প্রচেষ্টার বিরোধিতা করছে, কারণ তারা জানে আইআরএ সংবিধান মেনে চলবে না; বরং বাংলাদেশে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দেবে।
ইউনূস ও জামায়াত এখন সেনাবাহিনীকে ভেঙে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা জানে, আইসিটির এমন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে বিদ্রোহ উসকে দিতে পারে। একবার সেনাবাহিনীর ভেতরে বিভাজন তৈরি হলে, তারা আইআরএ নামক দলটিকে প্রতিষ্ঠার অজুহাত পাবে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তার পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়া। এতে জামায়াতের প্রভাব সরাসরি সেনাবাহিনীর ভেতরেও ঢুকে পড়েছে।
একজন ভারতীয় কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠার পর থেকে এত বড় সংকটের মুখে আর কখনো পড়েনি।” সেনাপ্রধান বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতরেও কোনো রাজনৈতিক সমর্থন পাচ্ছেন না। পাশাপাশি, বাহিনীর অভ্যন্তরে চরমপন্থী মতাদর্শের বিস্তারের আশঙ্কাও বাড়ছে। এটি যদি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তবে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে বিদ্রোহ অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে।
সূত্র: IANS
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au