নারীদের অপমান না করার বার্তা দিলেন থালাপতি বিজয়
তামিলনাড়ুর জনপরিসরে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর, অশ্লীল ও মানহানিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ও অভিনেতা থালাপতি বিজয়। তিনি বলেছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে কোনোভাবেই ব্যক্তিগত…
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার জেরে জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিনসহ কয়েকজন ব্রিটিশ এমপির ইসরায়েলে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’র জানিয়েছেন, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জাররাহ এলাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। কনস্যুলেটটি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, বিশেষ করে গাজা, পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে। তবে ইসরায়েলে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের কার্যালয় তেল আবিবে অবস্থিত।
সম্প্রতি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ডকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এসব কর্মকাণ্ডে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের নীরব সমর্থন রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর পরপরই ইসরায়েলের পক্ষ থেকে পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা আসে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’র যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের ব্রিটিশ জনগণের বিরুদ্ধে কোনো বিরোধ নেই, তবে বর্তমান ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে শত্রুভাবাপন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এ ছাড়া সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিন, ইউর পার্টির এমপি জারা সুলতানা, লেবার এমপি ডায়ান অ্যাবট, নাজ শাহ, জন ম্যাকডোনেল ও রিচার্ড বার্গন এবং গ্রিন পার্টির এমপি হান্নাহ স্পেন্সার, কার্লা ডেনিয়ার, সিয়ান বেরি ও এলি চাউনসের ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েল একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণে ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন গাজা সমন্বয় মিশন থেকেও যুক্তরাজ্যকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অধিকৃত ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা ফ্রান্স, কানাডাসহ আরও ১১টি দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘোষণা করা হয়েছে। ইসরায়েল এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে।
তবে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ ব্রিটিশ এমপিদের ওপর প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে এটিকে ‘গুরুতর ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, নিষেধাজ্ঞা কোনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং সংলাপের মাধ্যমে মতবিরোধ দূর করার চেষ্টা করা উচিত।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেছেন, যুক্তরাজ্য শুধু ইসরায়েলি বসতিগুলো নয়, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলকেও অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করে।
এদিকে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতীকী পাল্টা পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দক্ষিণ আটলান্টিকে অবস্থিত ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে এটিকে ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে বৈষম্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তুলনামূলকভাবে সংযত অবস্থান নিয়ে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার মতো ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথে যাবে না। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরকে অস্থিতিশীল করতে পারে এমন পদক্ষেপও ওয়াশিংটন দেখতে চায় না।
বসতি সম্প্রসারণ ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের নীতি আরও কঠোর হওয়ায় ইসরায়েল-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের কূটনৈতিক দূরত্বও ক্রমেই বাড়ছে। নতুন করে কনস্যুলেট বন্ধ এবং ব্রিটিশ এমপিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত সেই উত্তেজনাকেই আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au