ইরানের ২৭ এয়ারলাইনসহ ৩৬ প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ইরানের বিমান চলাচল খাতকে সহায়তার অভিযোগে দেশটির ২৭টি এয়ারলাইনসহ মোট ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে…
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে শেখ ফজলুল করিম সেলিমকে ঘিরে। দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, তার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের পর বিষয়টি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় আসে।
শেখ হাসিনা বলেন, শেখ সেলিম বর্তমানে দলের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। তার অনুপস্থিতিতে দলীয় সভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শেখ হাসিনা।ছবিঃ বিবিসি বাংলা
আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, শেখ হাসিনা দলের গঠনতান্ত্রিক ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার কথাই উল্লেখ করেছেন। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কয়েকজন মারা গেছেন এবং অনেকে বিভিন্ন কারণে সক্রিয় নেই। এ অবস্থায় শেখ সেলিম বর্তমানে জ্যেষ্ঠতম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে বিভিন্ন দলীয় সভায় সভাপতিত্ব করছেন।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা কে হবেন, তা দলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। শেখ সেলিমের নাম সামনে আসা মানেই স্থায়ীভাবে দলের সভাপতি নির্ধারণ হয়ে যাওয়া নয়।
শেখ ফজলুল করিম সেলিম দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে এবং শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শেখ পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সক্রিয় রয়েছেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেখ সেলিমের বড় ভাই শেখ ফজলুল হক মণি ও তার স্ত্রীও নিহত হন।
শেখ সেলিম ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। এর আগে তিনি দীর্ঘ সময় দলের যুব সংগঠন যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। গোপালগঞ্জ থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি মোট আটবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
বর্তমানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর ১৬ সদস্যের মধ্যে ক্রমানুসারে শেখ সেলিমের অবস্থান তৃতীয়। তার আগে থাকা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও মতিয়া চৌধুরী মারা যাওয়ায় তিনি দলের জ্যেষ্ঠতম সক্রিয় নেতাদের একজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামও সামনে এসেছে। দলের অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাব্য মুখ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
তবে মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয় দলের সর্বস্তরে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তি। তিনি দলের কঠিন সময়ে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন। ভবিষ্যতে দলে তার ভূমিকা কী হবে, তা দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, নতুন সময়ের জন্য নতুন মানুষ ও নতুন চিন্তার প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্বের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
শেখ সেলিমের নাম সামনে আসার সময় শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়ে দলের ভেতরে বিভিন্ন বৈঠক হচ্ছে। তিনি নিজেও অনেক বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন। যেসব বৈঠকে তিনি উপস্থিত থাকতে পারছেন না, সেখানে জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে শেখ সেলিম সভাপতিত্ব করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মজিবর রহমান চৌধুরী মনে করেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিবর্তন ও নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। তার মতে, শেখ সেলিম দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতা হলেও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ক্ষেত্রে দলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ও নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ফলে শেখ সেলিমকে ঘিরে বর্তমান আলোচনা মূলত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা, জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে। স্থায়ীভাবে দলের নেতৃত্বে কে থাকবেন, সেটি শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত ও কাউন্সিলের ওপরই নির্ভর করবে।
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au