বহুমুখী সংকটে চাপে সাধারণ মানুষের জীবন
সকাল থেকে গ্যাস নেই, রান্না করতে গিয়ে বাড়তি খরচে কিনতে হচ্ছে সিলিন্ডার। সন্ধ্যায় কর্মস্থল থেকে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরেও মিলছে না বিদ্যুৎ। এর মধ্যে বাজারে…
মেলবোর্ন, ১৮ অক্টোবর- চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ ও অস্থিরতার জেরে প্যাসিফিক গ্রুপের আটটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার (১৮ অক্টোবর) থেকে এসব কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকবে।
বন্ধ হওয়া কারখানাগুলো হলো প্যাসিফিক জিন্স-১, প্যাসিফিক জিন্স-২, প্যাসিফিক অ্যাটায়ারস, প্যাসিফিক অ্যাক্সেসরিজ, প্যাসিফিক ওয়ারকওয়্যারস, ইউনিভারসেল জিন্স, এইচটি ফ্যাশন ও জিন্স ২০০০।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৪ অক্টোবর থেকে কিছু শ্রমিক বিনা অনুমতিতে কর্মবিরতি শুরু করেন। একাধিকবার কাজে ফেরার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তারা ফেরেননি। বরং ১৫ ও ১৬ অক্টোবর তারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, ভাঙচুর, নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালান। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড ‘বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন ২০১৯’-এর আওতায় বেআইনি ধর্মঘট হিসেবে গণ্য হয়। ফলে কারখানাগুলোর কার্যক্রম চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্যাসিফিক গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার সুহৃদ চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার শ্রমিক বিক্ষোভের পর প্রথমে সাময়িক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত ৯ অক্টোবর প্যাসিফিক গ্রুপের শ্রমিকরা পুলিশের হয়রানির অভিযোগে বিক্ষোভ করেছিলেন। এরপর বুধবার (১৪ অক্টোবর) থেকে আবার বিক্ষোভ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার ইপিজেডের বিভিন্ন সেক্টরে প্যাসিফিক গ্রুপের কারখানাগুলোর সামনে শ্রমিকরা অবস্থান নেন। এতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ওপর হামলার অভিযোগও ওঠে।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ২২ দফা দাবিতে প্যাসিফিক ক্যাজুয়াল লিমিটেডের শ্রমিকরা আন্দোলন করলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তখন মালিকপক্ষ দুটি ইউনিট বন্ধ করে দেয়। পরে শ্রমিকরা মুচলেকা দিয়ে কাজে যোগ দেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, “আমরা কারখানা বন্ধের চিঠি পেয়েছি। শ্রমিকদের মধ্যে কিছু অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে। তবে বাইরে থেকে কেউ ইন্ধন দিচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au