নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ প্রতীক তালিকায় নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে ‘শাপলা কলি’। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩১ অক্টোবর- নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ প্রতীক তালিকায় নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে ‘শাপলা কলি’। তবে এই প্রতীক নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। কারণ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, তারা এই প্রতীকটি নয়, চায় শুধুমাত্র ‘শাপলা’। ইসি বলছে, কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য নয়, কমিশনের বিবেচনাতেই প্রতীকটি যোগ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে ইসির প্রজ্ঞাপনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১৯৭২ সালের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৪ অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন করে এই প্রতীক যুক্ত করা হয়েছে।
তবে প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই আপত্তি তোলে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, “আমরা ‘শাপলা কলি’ নয়, ‘শাপলা’ প্রতীক চাই। ইসি আগে জানিয়েছিল, শাপলা দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু এখন যেহেতু ‘শাপলা কলি’ যুক্ত করা হয়েছে, তাহলে ‘শাপলা’ও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। আমরা শাপলা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প বিবেচনা করছি না।”
এনসিপি এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই শাপলা প্রতীকের দাবিতে অনড়। নিবন্ধন পেতে তারা শাপলা প্রতীকই চাইছে বলে দলীয় নেতৃত্ব বারবার জানিয়েছে। এমনকি প্রতীক না দেওয়ায় কমিশনের ওপর ক্ষোভও প্রকাশ করেছে তারা।
বিকেলে নির্বাচন ভবনে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, “কারও চাপে বা দাবির মুখে নয়, কমিশনের বিবেচনাতেই ‘শাপলা কলি’ প্রতীকটি যুক্ত করা হয়েছে। আমাদের প্রতীকের তালিকা নিয়ে আগে নানা সমালোচনা ছিল। তাই কিছু প্রতীক বাদ দিয়ে কিছু নতুন প্রতীক সংরক্ষণ করা হয়েছে।”
তিনি জানান, “আগের তালিকা থেকে ১৬টি প্রতীক বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ১১৯টি প্রতীক সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কমিশন মনে করেছে ‘শাপলা কলি’ রাখা যেতে পারে। শাপলা ও শাপলা কলির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই শাপলা কলি যুক্ত করা হলেও শাপলা প্রতীক এখনো বিধিমালায় নেই।”
সচিব আরও বলেন, “কে চেয়েছে বা কেন চেয়েছে সেটা বিষয় নয়। কমিশন যদি মনে করে কোনো প্রতীক রাখা যুক্তিযুক্ত, তাহলে রাখে; ভবিষ্যতে প্রয়োজন মনে করলে পরিবর্তনও করতে পারে। এটা কাউকে খুশি করার জন্য নয়, কমিশনের স্বাধীন সিদ্ধান্ত।”
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতীক তালিকা সংশোধন একটি চলমান প্রক্রিয়া। যদি কোনো প্রতীকের কারণে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয় বা সমালোচনা বাড়ে, তাহলে কমিশন তা পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
প্রসঙ্গত, প্রতীক নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় গত কয়েক মাস ধরে। বিভিন্ন নবগঠিত রাজনৈতিক দল নিজেদের পছন্দের প্রতীক চেয়ে ইসিতে আবেদন জানায়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল এনসিপির ‘শাপলা’ দাবি। ইসির মতে, শাপলা প্রতীক ইতোমধ্যে অন্য একটি দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাই নতুন করে তা অনুমোদন দেওয়া যায়নি। তবে এবার ‘শাপলা কলি’ যুক্ত হওয়ায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে রাজনীতির অঙ্গনে।