সমীক্ষাকে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বললেন মমতা, ভোটের ফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল
মেলবোর্ন, ১ মে- পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বুথফেরত সমীক্ষা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যজুড়ে। ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন…
মেলবোর্ন, ৩১ অক্টোবর- সুদানের দারফুরে আবারও সংঘটিত হয়েছে ভয়াবহ গণহত্যা, যা জাতিসংঘের কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস হত্যাযজ্ঞ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর সংঘর্ষে শত শত মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
গত শনিবারের পর থেকে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ প্রধানত হেঁটে তাবিলায় পালিয়ে গেছেন। এল–ফাশের থেকে এটি প্রায় ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে (৪৩ মাইল) অবস্থিত এবং আগে থেকেই প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ এখানে আশ্রয় নিয়ে আছেন।
দারফুরের দক্ষিণাঞ্চলের শহর এল-ফাশের ও আশপাশের গ্রামগুলোতে কয়েকদিন ধরে গোলা ও মর্টারের তীব্র হামলা চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলা এতটাই হঠাৎ এবং নির্মম ছিল যে পরিবারগুলো পালানোর সুযোগই পায়নি।
৪২ বছর বয়সী এক নারী, যিনি বর্তমানে একটি শরণার্থী শিবিরে আশ্রিত, কাঁদতে কাঁদতে বলেন,
“গোলায় আমার এক মেয়ে মারা গেছে, অন্য মেয়ের চোখে আঘাত লেগেছে, আর ছেলেটি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে গেছে। আমরা ঘর হারিয়েছি, স্বপ্ন হারিয়েছি, বেঁচে আছি শুধু আতঙ্কে।”
জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস জানিয়েছে, র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF) এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে দারফুরে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে নারী ও শিশুদের ওপরও ব্যাপক সহিংসতা চালানো হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এই সংঘাত এখন জাতিগত নিধনে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মুসলিম ও কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন,
“সুদানে যা ঘটছে, তা একটি সম্পূর্ণ মানবিক বিপর্যয়। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।”
এদিকে, বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (WFP) জানিয়েছে, দারফুর অঞ্চলে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লাখো মানুষ অনাহারে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতেও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়ন উভয়েই এই সংঘাত বন্ধে জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
দারফুরের মাটিতে প্রতিদিন বাড়ছে লাশের সংখ্যা, আর বেঁচে থাকা মানুষরা কেবল আশা করছে, হয়তো কোনো দিন এই ভয়াবহতার শেষ হবে।
সুত্রঃ আল–জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au