সমীক্ষাকে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বললেন মমতা, ভোটের ফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল
মেলবোর্ন, ১ মে- পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বুথফেরত সমীক্ষা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যজুড়ে। ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন…
মেলবোর্ন, ১ নভেম্বর- দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই নাজুক হয়ে পড়ছে। রাজস্ব আদায় হ্রাস, পূর্ববর্তী সরকারের নেওয়া বিপুল ঋণ পরিশোধের চাপ, এবং দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন তীব্র অর্থ সংকটে পড়েছে। সরকারি ব্যয় নির্বাহ ও দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্যও সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসে সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বেড়েছে ১.৭৯ শতাংশ, কিন্তু বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমেছে ০.০৩ শতাংশ। এতে দেখা যাচ্ছে, উৎপাদন ও বিনিয়োগে স্থবিরতা বাড়লেও সরকারি ব্যয় মেটাতে ঋণ বাড়ছে দ্রুতগতিতে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকারি খাতে ৫.৫ লাখ কোটি টাকা এবং বেসরকারি খাতে ১৭.৫ লাখ কোটি টাকা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ ঋণপ্রবাহ সামান্য বেড়েছে (০.৩৬ শতাংশ), তবে তা মূলত সরকারি ঋণ বৃদ্ধির ফল, যার সঙ্গে উৎপাদন বা কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্পর্ক নেই।
অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১১ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে লক্ষ্য ছিল ৬১ হাজার ২৬ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৫৪ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা।
রাজস্ব ঘাটতির অন্যতম কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চিহ্নিত করেছে,
১. অর্থনৈতিক মন্দা ও বাণিজ্য স্থবিরতা,
২. জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চলমান সংস্কার-সংকট, এবং
৩. কর-সংগ্রহে প্রশাসনিক অদক্ষতা।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ ঋণ সময়মতো পরিশোধ না হওয়ায় সুদ ও দণ্ডসুদ বেড়ে গেছে। বর্তমান সরকার সেই ঋণ পরিশোধ করছে, ফলে অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে বহুগুণে।
সরকার এখন মূলত নন-ব্যাংকিং উৎস থেকে ঋণ নিচ্ছে, বিশেষত সঞ্চয়পত্র ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে, যেখানে সুদের হার ১১–১২ শতাংশ পর্যন্ত।
জুলাই-আগস্ট দুই মাসে সরকার নন-ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিয়েছে প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যা দিয়ে আগের ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।
অর্থ সংকটের চরম পরিস্থিতিতে সরকার কখনও কখনও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছাপানো টাকায় ঋণ নেয়, যদিও তা স্বল্প মেয়াদে পরিশোধ করা হয়। সাম্প্রতিক দুই মাসে সরকার এমন ঋণ পরিশোধ করেছে ৩ হাজার ১০৫ কোটি টাকা।
তবে ব্যাংক খাতের তারল্য সংকটের কারণে সরকার বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ নিচ্ছে না, বরং আগের নেওয়া ২ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতির হার এখনো ৮ শতাংশের ওপরে, যা গত তিন বছর ধরে গড়ে ৯–১১ শতাংশের মধ্যে ছিল। এই দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতিতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে, ফলে সরকারকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বাড়াতে হচ্ছে, যার ফলে বাজেট ব্যয় আরও বেড়েছে।
বেসরকারি খাতে শিল্প, রপ্তানি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে মন্দা কাটছে না। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় থেকে বিনিয়োগ ও উৎপাদনে স্থবিরতা দেখা দেয়, যা এখনও অব্যাহত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, আমদানি কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু রপ্তানি ও শিল্প উৎপাদন কমে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ নেতিবাচক।
আগস্টের শেষে ব্যাংক খাতে আমানত বেড়েছে মাত্র ১.৪৪ শতাংশ, যা তারল্য পরিস্থিতি উন্নত করার জন্য যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেয়াদি আমানত বাড়লেও চলতি আমানত কমে যাওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম কমে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
আইএমএফ তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছে, সরকারকে দ্রুত ঋণনির্ভর ব্যয় কমিয়ে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে, অন্যথায় আর্থিক ভারসাম্য ভেঙে পড়তে পারে। সংস্থাটি বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ হ্রাসকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এখন এক নাজুক অবস্থায় দাঁড়িয়ে। রাজস্ব ঘাটতি, ঋণের বোঝা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বিনিয়োগ স্থবিরতা একসঙ্গে অর্থনীতিকে দুর্বল করছে।
অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে সরকারকে আরও ঋণ নিতে হবে, যা ভবিষ্যতে ঋণফাঁদ ও মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াবে।
সুত্রঃ যুগান্তর
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au