যুক্তরাষ্ট্রে ১৩২ বছরের রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম, ইউরোপেও উষ্ণতম আগস্ট
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড রাখা শুরুর পর ১৩২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম পার হয়েছে। জুন থেকে আগস্ট…
মেলবোর্ন, ২ নভেম্বর- ক্যারিবীয় দেশ জ্যামাইকা বিধ্বস্ত ঘূর্ণিঝড় ‘মেলিসা’–র আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভয়াবহ এই ঘূর্ণিঝড় দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, খাদ্য ও পানীয় জলের চরম সংকটে পড়েছে লাখো মানুষ। স্থানীয় প্রশাসন ও জাতিসংঘের মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, দেশটিতে এখন “মানবিক সংকটের মতো পরিস্থিতি” তৈরি হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় মেলিসা ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার বেগে জ্যামাইকায় আঘাত হানে। প্রবল বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসে বহু গ্রাম প্লাবিত হয়, উপকূলীয় এলাকা জুড়ে গাছপালা ও ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। রাজধানী কিংস্টনের অনেক অংশ এখনও পানির নিচে। সরকারি হিসেবে, অন্তত ৪২ জন নিহত ও শতাধিক নিখোঁজ, তবে স্থানীয়রা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের পর উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন খাদ্য, পানি ও ওষুধের ঘাটতি। বহু এলাকায় দোকানপাট ভেসে গেছে, রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন,
“আমাদের ঘর নেই, খাবার নেই, পানি নেই। তিন দিন ধরে শুধু বৃষ্টির পানি খেয়ে আছি।”
দেশটির ৮০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটও ভেঙে পড়েছে। দুর্গত অঞ্চলগুলোতে পৌঁছাতে না পারায় উদ্ধার দলগুলো হেলিকপ্টার ও নৌপথে অভিযান চালাচ্ছে।
জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা এক নজিরবিহীন দুর্যোগের মুখোমুখি।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তা ও পুনর্গঠনের অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে জাতিসংঘ ও রেড ক্রস প্রাথমিকভাবে ত্রাণ সামগ্রী পাঠাতে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড় মেলিসা ক্যারিবীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবের নতুন উদাহরণ। ক্রমবর্ধমান সমুদ্রতাপমাত্রা ঝড়ের শক্তি ও ধ্বংসক্ষমতা বাড়িয়ে তুলছে। জলবায়ু গবেষকরা সতর্ক করেছেন, ভবিষ্যতে এমন শক্তিশালী ঝড়ের সংখ্যা আরও বাড়বে।
ঘূর্ণিঝড় মেলিসার তাণ্ডবে জ্যামাইকা এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত। খাদ্য, পানি ও আশ্রয়ের অভাবে লাখো মানুষ মানবিক সংকটে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত সহায়তায় না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au