ময়মনসিংহে যুবককে পেট্রল ঢেলে আগুন, হাসপাতালে মৃত্যু
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ফরহাদ হোসেন (৩৫) নামে এক যুবকের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দগ্ধ অবস্থায় পাশের জলাশয়ে লাফ দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি…
বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৯২ জন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার এই তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন করে মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে দুজন খুলনা বিভাগের বাসিন্দা। এ ছাড়া ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে একজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৪৯২ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫৫৯ জন, ময়মনসিংহে ৮০, চট্টগ্রামে ২০২, খুলনায় ২৮৪, বরিশালে ১৭৮, রংপুরে ৫৪, রাজশাহীতে ১২২ এবং সিলেট বিভাগে ১৩ জন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৮ হাজার ৪৩০ জন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে মোট ১৩৯ জনের।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৩০৪ জন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৪৪ হাজার ৮৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
চলতি বছর মে মাস থেকেই ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। জুনে মে মাসের তুলনায় প্রায় তিন গুণ রোগী শনাক্ত হয়। জুলাইয়ে সংক্রমণ আরও দ্রুত বাড়ে এবং ওই মাসে জুনের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ হয়। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যুও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আগস্টে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। ওই মাসে জুলাইয়ের তুলনায় ডেঙ্গু সংক্রমণ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও।
এবার দেশে ডেঙ্গু ভাইরাসের ডেন-৩ ধরনটি প্রধান হয়ে উঠেছে। তবে ডেন-২ ধরনও উল্লেখযোগ্য হারে ছড়াচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংক্রমণের ধরনে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। কোথাও ডেন-৩ বেশি পাওয়া যাচ্ছে, আবার কোনো কোনো এলাকা ও গ্রামাঞ্চলে ডেন-২-এর উপস্থিতি বেশি।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এই পরিস্থিতিকে ‘মিশ্র চিত্র’ হিসেবে বর্ণনা করছে।
বাংলাদেশে ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে শুরু করে। ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো এক বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়ায়।
তবে সংক্রমণ ও মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ বছর ছিল ২০২৩। ওই বছর সারা দেশে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। এটি এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড।
বড় ধরনের কোনো প্রাদুর্ভাবের পর জনগোষ্ঠীর একটি অংশে সংশ্লিষ্ট ডেঙ্গু সেরোটাইপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হওয়ায় সাধারণত পরপর একই মাত্রার আরেকটি ঢেউ দেখা যায় না। এ কারণে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সংক্রমণ ও মৃত্যু ২০২৩ সালের রেকর্ড ছাড়ায়নি।
চলতি বছরের প্রথম কয়েক মাসেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে জুলাই থেকে সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেও সেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au