ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৪৯২
বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৯২ জন।…
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ফরহাদ হোসেন (৩৫) নামে এক যুবকের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দগ্ধ অবস্থায় পাশের জলাশয়ে লাফ দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তাঁর। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
নিহত ফরহাদ মুক্তাগাছা পৌরসভার মধ্যহিস্যা এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে। তাঁর গ্রামের বাড়ি উপজেলার তারাটি ইউনিয়নের মৌশাদিয়া গ্রামে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে কিছুটা দূরে যাওয়ার পর নির্জন একটি স্থানে হামলার শিকার হন ফরহাদ। অভিযোগ, দুই ব্যক্তি পেছন থেকে তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে দেন। এরপর তাঁদের একজন আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান।
শরীরে আগুন জ্বলতে থাকায় প্রাণ বাঁচাতে পাশের একটি জলাশয়ে ঝাঁপ দেন ফরহাদ। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন ফরহাদ। মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, ফরহাদ পুলিশকে বলেছেন, একজন তাঁর পেছন থেকে পেট্রল ঢালেন এবং অপরজন আগুন ধরিয়ে দেন। তবে হামলাকারীদের কাউকে তিনি চিনতে পারেননি।
ফরহাদের পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আগে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতেন। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্যও এলাকায় প্রচার চালিয়েছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, ফরহাদ যে বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকতেন, তার পাশে একটি পরিত্যক্ত রাজবাড়ি এলাকায় নিয়মিত মাদকসেবীদের আড্ডা বসত। ফরহাদ তাঁদের সেখানে আড্ডা দিতে প্রায়ই বাধা দিতেন। এ নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধও তৈরি হয়েছিল।
এই বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে পুলিশ এখনো হামলার কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি।
নিহত ফরহাদের বাবা আবদুস সাত্তার বলেন, তাঁর ছেলে সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন। এ কারণে কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।
মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর। হামলার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
তিনি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য ফরহাদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি ও অন্যান্য আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ বলছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ফরহাদের দেওয়া তথ্য এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করে হামলাকারীদের শনাক্ত ও ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করার চেষ্টা চলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au