যুক্তরাষ্ট্রে ১৩২ বছরের রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম, ইউরোপেও উষ্ণতম আগস্ট
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড রাখা শুরুর পর ১৩২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম পার হয়েছে। জুন থেকে আগস্ট…
মেলবোর্ন, ২ নভেম্বর: লন্ডনের ফ্রন্টলাইন ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT-BD)-কে “ক্যাঙ্গারু কোর্ট” বা “রাজনৈতিক নিপীড়নের হাতিয়ার” হিসেবে আখ্যা দিলেন ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সিনিয়র কোর্টের সলিসিটর এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ সায়েদ জয়নাল আবেদিন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের কাঠামো নিয়ে একটি বিশদ আইনি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন, যেখানে উল্লেখ করা হয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসন সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালা ভঙ্গ করছে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের যন্ত্রে পরিণত করেছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সাংবিধানিকভাবে বৈধ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাই ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর প্রশাসনিকভাবে গঠিত ইউনূস সরকারকে আন্তর্জাতিক আদালতের Namibia Advisory Opinion (ICJ, 1971) অনুযায়ী “দখলদার প্রশাসন” (de facto regime) হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
এছাড়া ২০২৪ সালের নভেম্বরে ICT-এর আইনে অতীতমুখী সম্প্রসারণের মাধ্যমে ২০০৯–২০২৪ সালের অপরাধ অন্তর্ভুক্ত করা সংবিধানের ৩৫(১) ও ৯৩ অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে এটিকে “ultra vires” বা বিধিবহির্ভূত পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
অভিযুক্তদের আইনজীবী বেছে নেওয়ার অধিকার হরণ, পক্ষপাতদুষ্ট প্রসিকিউটর নিয়োগ, একপাক্ষিক শুনানি এসব বিষয়কে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি ICCPR-এর ১৪(৩)(d) ধারার পরিপন্থী বলা হয়েছে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন বা তদন্তাধীন ব্যক্তিরা সরকারি পদে থাকতে পারবেন না কিংবা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না যা “দোষ প্রমাণের আগেই দোষী সাব্যস্ত করার” (presumption of guilt before trial) উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় চার লক্ষাধিক মানুষ রাজনীতিক, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সংখ্যালঘু নাগরিক ন্যায্য বিচার ছাড়াই আটক রয়েছেন; কারাগারে ধারণক্ষমতার তিনগুণ বেশি বন্দি, এবং বহু ক্ষেত্রে গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ড Rome Statute (1998) অনুযায়ী মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ (Crimes against Humanity) হিসেবে গণ্য হতে পারে।
সায়েদ জয়নাল আবেদিন বলেন, “ড. ইউনূসের প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত তথাকথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোনও বৈধ আদালত নয় এটি এক রাজনৈতিক হাতিয়ার।” তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশের জনগণ এমন এক বিচারব্যবস্থার দাবিদার যা আইন, স্বাধীনতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।”
টেলিভিশন সাংবাদিক তামান্না মিয়া পরিচালিত এই সম্মেলনে পিটিআই-এর অদিতি খান্না, সিএনএন নিউজ১৮-এর সনজয় উর সুরী, ও চ্যানেল এস-এর রেজাউল করিম মৃধাসহ দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। তামান্না মন্তব্য করেন, “এই প্রতিবেদন কেবল বাংলাদেশের নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার গণতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থার ভবিষ্যতের জন্য এক সতর্কবার্তা।”
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর বাংলাদেশের নতুন প্রশাসন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও সমতা ফিরিয়ে আনার। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতা শেখ হাসিনার পতনের প্রায় পাঁচশ দিন পরও দেখা যাচ্ছে, বিচারব্যবস্থা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) সম্প্রতি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গুম এবং হত্যার অভিযোগে সামরিক বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক মিলিয়ে মোট ২৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। বিভিন্ন সময়ে র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি-অপস) ও পরিচালক (গোয়েন্দা শাখা) ছিলেন এমন ১১ জন সেনা কর্মকর্তাও ট্রাইব্যুনালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি। এ ছাড়া আসামির তালিকায় নাম রয়েছে শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের নাম। প্রশ্ন উঠেছে এই মামলাগুলির তদন্ত ও বিচার কি সত্যিই নিরপেক্ষভাবে চলছে?
অভিযুক্ত কর্মকর্তারা অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য সংবাদমাধ্যম থেকেই জানতে পেরেছেন, এবং তাঁদের আইনজীবীও পৃথক নয় সমষ্টিগতভাবে নির্ধারিত। তাদের বিচার শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক আইনের মানদন্ড বজায় রাখেনি।
বাংলাদেশ ICCPR ও Rome Statute-এর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও এখানকার বিচারপ্রক্রিয়ায় নির্দোষ ধারণা (presumption of innocence), দ্রুত অভিযোগ জানানো, ন্যায্য শুনানি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মতো মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন ঘটছে।
অভিযুক্ত সামরিক কর্মকর্তাদের অসাংবিধানিকভাবে দেওয়ানি আদালতে স্থানান্তর এবং ICT-এর ৭ অক্টোবরের সংশোধনী তাঁদের আগেভাগেই ‘দোষী’ বানিয়ে ফেলেছে যা বিচার হওয়ার আগেই শাস্তির সমতুল্য।
প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। তিনি পূর্বে জামায়াত-ই-ইসলাম নেতাদের পক্ষে কাজ করেছেন, যাঁদের অনেককে শেখ হাসিনার আমলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। তিনি পূর্বে জামায়াত-ই-ইসলাম নেতাদের পক্ষে কাজ করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের দায়ে আপিল বিভাগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউশন দলের ভূমিকা সমস্যাজনক। আইসিটির আগে আজহারুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী (ডিফেন্স লইয়ার) হিসেবে ছিলেন তাজুল ইসলাম। আপিলে তিনি নিজে ট্রাইব্যুনালের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব না করলেও তার বর্তমান প্রসিকিউশন টিমের সদস্যরা ট্রাইব্যুনালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আপিল বিভাগে যে-ই ট্রাইব্যুনালের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করুক না কেন, আদেশ একই হতো। যা স্পষ্ট স্বার্থের সংঘাতের (conflict of interest) বিদ্যমান।’
অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা নাম প্রকাশ না করার সত্বে ওটিএন বাংলাকে বলেন, কর্মকর্তারা দেশ ছাড়েননি, বরং নিজেরাই আত্মসমর্পণ করেছেন, যা ন্যায্য বিচার পাওয়ার আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। তাঁদের অনেকেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, তবু শুধুমাত্র শেখ হাসিনার প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করায় সন্দেহের মুখে পড়েছেন।
তাদের আইনজীবীদের সাথে যোগাযোগ করতেও নানা রকম বিধি-নিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। নানারকম বিধি-নিষেধের মধ্যে পরিবারগুলোকে চাপে রাখা হয়েছে যা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একটি আশঙ্কার জায়গা তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের আশঙ্কা, যখন ন্যায়, নিরপেক্ষতা ও আইনি মানদণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ তখন কি সত্যিকারের বিচার সম্ভব?
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au