মেলবোর্ন, ২ নভেম্বর- রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ঘনিরামপুর গ্রামের জুতা কারিগর রূপলাল রবিদাস ও তার জামাই প্রদীপ দাস গত ৯ আগস্ট রাতে স্থানীয় জনতার হাতে গণপিটুনিতে নিহত হন। নিহতের দিনটি ছিল তার মেয়ের বিয়ে ঠিক করার আগ মুহূর্ত। ঘটনার পর পরিবারের উপর বেদনা নেমে আসে।
আজ তাদের বড় মেয়ে নুপুর রবিদাসের বিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যদিও আয়োজন চলছে, তবুও আনন্দের মধ্যে শোক বিরাজ করছে, কারণ বাবার উপস্থিতি বিয়ের আনন্দকে পুরোপুরি পূর্ণ করতে পারছে না। বাড়িতে প্যান্ডেল সাজানো হয়েছে, বরযাত্রীর আপ্যায়নের জন্য আয়োজন করা হয়েছে, এবং প্রায় ৪০০ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
রূপলাল ও প্রদীপকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনা স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। ঘটনা ঘটে রূপলাল ও প্রদীপ একটি ভ্যান নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন স্থানীয়রা তাদের চোর সন্দেহে ধরে মারধর করে। রূপলাল ঘটনাস্থলেই মারা যান, প্রদীপ হাসপাতালে নেয়ার পথে প্রাণ হারান।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এখনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। রূপলালের স্ত্রী মালতি রবিদাস জানিয়েছেন, “আমার স্বামী ও জামাই নিরপরাধ ছিলেন। তারা চোর নন। তাদের হত্যা অন্যায়ের চরম উদাহরণ।” পরিবার দ্রুত বিচারের দাবি করেছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিয়ের আয়োজন ও খরচের জন্য নিহতদের পরিবারের জন্য তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকশো জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজকের এই বিয়ের আয়োজন হলেও, এটি আনন্দের মধ্যে শোকের মিশ্রণ নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাবার অনুপস্থিতি মেয়ের জীবনের এই বিশেষ দিনটিকে ভিন্নভাবে উপলব্ধি করতে বাধ্য করছে।