লন্ডনে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবিঃ বিবিসি
মেলবোর্ন, ৫ নভেম্বর- প্রায় সওয়া বছর ধরে ভারতে আশ্রয় নিয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে মুখ খোলার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে এ প্রক্রিয়ায় ভারতের বিশেষ নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রিত অনুমতি রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে এই ‘আনলকিং’-এর প্রেক্ষাপট ভিন্ন মাত্রা যোগ করছে।
প্রায় ন’মাস আগে ঢাকার ৩২ নম্বর ধানমন্ডির শেখ মুজিবের বাসভবন ভাঙচুরের পর, বাংলাদেশ সরকার অভিযোগ করেছিল যে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চাইছেন। এরপর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাল্টা বিবৃতি দিয়ে জানায়, শেখ হাসিনা যা বলছেন তা তার ব্যক্তিগত স্বতন্ত্র দৃষ্টিকোণ, ভারতের সরকার কোনো ভূমিকা রাখছে না।
ভারতে থাকা শেখ হাসিনা অনলাইনে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মাধ্যমে নিয়মিত ভাষণ দিচ্ছেন। কিছু সাক্ষাৎকার রেকর্ডেড, আবার কিছু ‘লাইভ’। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত এই অনুমতির মাধ্যমে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে চাচ্ছে। এতে দলটির নেতাকর্মীদের মনোবলও চাঙ্গা হচ্ছে।
দিল্লিতে পট্টনায়ক এবং বলদাস ঘোষালের মতে, ভারত শেখ হাসিনার বক্তব্য ব্যবহার করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রভাব বিস্তার করছে। এতে দুটি উদ্দেশ্য সাধিত হচ্ছে-এক, বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়া পরখ করা এবং দুই, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া যে শেখ হাসিনা দলের নেতৃত্বে রয়েছেন এবং ভারতের সমর্থন আছে।

শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী। ছবিঃ বিবিসি
ভারতে আসার পর শেখ হাসিনার নিরাপত্তা এবং স্বাধীন চলাচল প্রথমে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল। তবে কোভিড লকডাউনের ধাপে ধাপে শিথিল করার মতো কৌশল অনুসরণ করে তার কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে কমানো হচ্ছে। তার আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার, গণমাধ্যমে ভাষণ এবং বাছাই করা নেতাদের সঙ্গে সশরীরে বৈঠকও ভারতের অনুমতিতে হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভারতের এই কৌশলগত ধাপে ধাপে ‘আনলকিং’ শুধু শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বাড়াচ্ছে না, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও প্রভাব ফেলছে। সামনের নির্বাচনের আগে এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থও চরিতার্থ হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে, ভিডিও বা লাইভ সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে আরও প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে দেখা যেতে পারে। এই প্রক্রিয়া কতদূর এগোবে, তা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক কূটনীতি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
সূত্র: বিবিসি