শনিবার থেকে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই কর্মসূচি শুরু হয়। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ নভেম্বর- দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। শনিবার সকাল ৯টা থেকে তারা লাগাতার কর্মসূচি শুরু করেছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার অলহরী দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফাতমা শবনম বলেন, “অফিস সহকারীরা পান ১২তম গ্রেডে বেতন, আর আমরা শিক্ষক হয়ে পাই ১৩তম গ্রেডে। এতে আমাদের সম্মান থাকে না। আমরা পড়ালেখা করে গ্রাজুয়েট হয়েছি, তবুও অফিস সহকারীদের স্যার বলতে হয়, এটা কষ্টদায়ক।”
তিনি আরও বলেন, “রিকশাওয়ালার চেয়েও আমাদের আয় কম। বাজারে ভালো মাছ কেনা যায় না। দুই ঈদে যে বোনাস পাই, তাতে ঈদ হয় না, কোরবানি তো অসম্ভব।”
শরীয়তপুরের শিক্ষক ইয়াছিন মিয়া বলেন, “সরকারি গাড়িচালকরা পান ১২তম গ্রেডে বেতন, আমরা শিক্ষকরা পাই ১৩তম গ্রেডে। অথচ দেশের বড় বড় ব্যক্তিরা আমাদের কাছেই পড়েছেন। এখন আমরা অবহেলিত।”
‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে চারটি সংগঠন এ আন্দোলন পরিচালনা করছে—বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাশেম-শাহিন), বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি) এবং সহকারী শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি বলেন, “হাজার হাজার শিক্ষক এখন শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়েছেন। আমাদের দাবি স্পষ্ট, দশম গ্রেডে বেতন, উচ্চতর গ্রেড ও পদোন্নতির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আলোচনায় ফল না পেলে এবার রাজপথেই দাবি আদায় করব।”
সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো, দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান, এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি বাস্তবায়ন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা সাড়ে ৬৫ হাজারের বেশি, যেখানে শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার। গত ২৪ এপ্রিল সরকার প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করলেও সহকারী শিক্ষকরা এতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।