মেলবোর্ন, ১৫ নভেম্বর- পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যে দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে গ্রেফতার ও বিচার প্রক্রিয়া থেকে আজীবন দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সরকার যে অধ্যাদেশ জারি করেছে, তাতে বলা হয়েছে সেনাপ্রধান ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনকালীন সিদ্ধান্ত বা অভিযান সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ আনা যাবে না। সিদ্ধান্তটি দেশজুড়ে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অধ্যাদেশটি সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেল। কারণ সামরিক বাহিনীর ভূমিকা, রাজনীতিতে তাদের প্রভাব এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগ বহুদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দু। সমালোচকদের দাবি, দায়মুক্তি দেওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোনো তদন্ত বা বিচার কার্যত অসম্ভব হয়ে যাবে।
সরকারি মহল বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সামরিক নেতৃত্বের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ বা ব্যক্তিগত বিদ্বেষের আওতায় আনা যাবে না, সে কারণেই এই সুরক্ষা প্রয়োজন ছিল। তবে বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তুলেছে যে সরকার সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতায় গিয়ে গণতন্ত্রের জবাবদিহিকে আরও দুর্বল করে ফেলেছে।
ঘোষণার পর রাজধানী ইসলামাবাদ ও লাহোরে ছোট পরিসরে বিক্ষোভ দেখা গেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, এই আইন ভবিষ্যতে ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকানোকে কঠিন করে তুলবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মতো নাজুক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। তারা বলছেন, দায়মুক্তি সাময়িক স্থিতি আনলেও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করবে।
সুত্রঃ বিবিসি