মেলবোর্ন, ১৮ নভেম্বর- ‘গোপন চুক্তিতে’ চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল এবং ঢাকার পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দুই বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ায় বাংলাদেশে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বন্দর সংশ্লিষ্ট মহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি লালদিয়া টার্মিনাল পরিচালনার জন্য ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুসারে প্রতিষ্ঠানটি টার্মিনালটির নকশা, নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব নেবে।
অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের মেডলগ এসএ পানগাঁও টার্মিনাল পরিচালনা করবে আগামী দুই দশকের জন্য। এই দুই প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগের অঙ্গীকার রয়েছে।
সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার দেশের বন্দর ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে। এতে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের গতি বাড়বে এবং বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। বিদেশি মূলধারার প্রবাহও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, দেশের কৌশলগত স্থাপনা বিদেশি হাতে গেলে ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। চুক্তির শর্ত নিয়ে স্বচ্ছতা না থাকা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বামপন্থী রাজনৈতিক দল ও শ্রমিক সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে যথেষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়া নেওয়া হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, মালিকানা পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতেই থাকছে এবং কেবল পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর যুক্ত হচ্ছে। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে দেশের বন্দর খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক ও আধুনিক হবে।
লালদিয়া ও পানগাঁও টার্মিনাল নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত এখন দেশের বন্দর ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সমর্থন ও বিরোধিতার মধ্যেই সামনে এগোবে এই দুটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন।