সহকর্মীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে তোলপাড় ভিক্টোরিয়া লিবারেল পার্টি
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের বিরোধী দল লিবারেল পার্টির এক সংসদ সদস্য (এমপি) নিজেরই দলীয় সহকর্মীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন…
মেলবোর্ন, ২৩ ডিসেম্বর- গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার পুরনো অবস্থান আবারও প্রকাশ্যে আনলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর্কটিকের কৌশলগত এই দ্বীপের জন্য একজন বিশেষ দূত নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছেন তিনি।
লুইজিয়ানার রিপাবলিকান গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ড–বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে মনোনীত করে ট্রাম্প বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমাদের এটি পেতেই হবে।” একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ট্রাম্পের এই ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ডেনমার্ক। কোপেনহেগেন জানিয়েছে, বিষয়টির ব্যাখ্যা জানতে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হবে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন এই নিয়োগকে “খুবই বিরক্তিকর” বলে মন্তব্য করেছেন এবং ডেনিশ সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনও কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড নিজের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করবে। তার ভাষায়, “গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীর। আমাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করতে হবে।” তিনি জানান, পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতায় তারা আগ্রহী, তবে কোনও চাপ মেনে নেওয়া হবে না।
এদিকে বিশেষ দূত হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেফ ল্যান্ড্রি বলেন, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার লক্ষ্যে কাজ করাকে তিনি সম্মানের বিষয় হিসেবে দেখছেন। এর আগেও তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন।

গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের , ছবিঃ বিবিসি
গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ১৯৭৯ সাল থেকে স্বশাসন ভোগ করলেও প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনও ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে। প্রায় ৫৭ হাজার জনসংখ্যার এই দ্বীপে পরিচালিত জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাসিন্দা ডেনমার্ক থেকে চূড়ান্ত স্বাধীনতার পক্ষে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিষয়ে তারা স্পষ্টভাবে বিরোধিতা করেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নও বিষয়টিতে অবস্থান নিয়েছে। ইইউ কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সংহতি রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। প্রথম মেয়াদে তিনি দ্বীপটি কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা ২০১৯ সালে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকার প্রত্যাখ্যান করে জানায়, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। তবু দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে এসে ট্রাম্প আবারও দ্বীপটির কৌশলগত অবস্থান, খনিজ সম্পদ এবং আর্কটিক অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার উপস্থিতির কথা তুলে ধরে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইচ্ছা জোরালো করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ দূত নিয়োগের মাধ্যমে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিলেন যে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখনও অটুট। এতে শুধু ডেনমার্ক নয়, নেটো মিত্রদের মধ্যেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au