দেশপ্রেম ও আবেগে ভরা জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ইক্কিস’. ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১ জানুয়ারি- বড় পর্দায় ধর্মেন্দ্রকে দেখা মানেই আবেগের এক গভীর অনুভব। ‘ইক্কিস’ ছবিতে প্রবীণ এই অভিনেতা আবারো প্রমাণ করলেন, সংযত অভিনয় দিয়েই দর্শকের হৃদয় ও আত্মা ছুঁয়ে যাওয়া সম্ভব। তার মুখভঙ্গি ও সংলাপ বলার দক্ষতা ছবির অন্যতম শক্তি।
জয়দীপ আহলাওয়াত যেন নিজেকে প্রতিবার নতুন করে আবিষ্কার করেন। ব্রিগেডিয়ার জান মোহাম্মদ নিসারের চরিত্রে তার অভিনয় ছিল পরিণত ও সংবেদনশীল। আবেগ, দুর্বলতা এবং মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে সাহসিকতার প্রকাশ- সব মিলিয়ে বলিউডের সেরা অভিনেতাদের তালিকায় তার অবস্থান আরো দৃঢ় হয়েছে। ধর্মেন্দ্র ও জয়দীপের মধ্যকার সম্পর্ক ছবির অন্যতম বড় আকর্ষণ।
সহ-অভিনেতাদের প্রশংসনীয় উপস্থিতি
অরুণের প্রেমিকার ভূমিকায় সিমার ভাটিয়া, লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানুত সিং হিসেবে রাহুল দেব এবং রিস সাগত সিংয়ের চরিত্রে সিকান্দার খের- সীমিত পরিসরেও সবাই সাবলীল অভিনয় উপহার দিয়েছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ভিভান শাহ। ক্যাপ্টেন বিজেন্দর মালহোত্রার চরিত্রে তার অভিনয় এবং যুদ্ধের দৃশ্যে লেফটেন্যান্ট অরুণের সঙ্গে তার সংলাপ দর্শকদের আবেগপ্রবণ করে তোলে। সেই সঙ্গে অন্যান্য সহ-অভিনেতারাও নিজেদের চরিত্রে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা এক সাহসী গল্প ‘ইক্কিস’
শ্রীরাম রাঘবন পরিচালিত এই জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রটি ভারতের সর্বকনিষ্ঠ পরমবীর চক্রপ্রাপ্ত শহিদ অরুণ খেতারপালের প্রতি এক অনন্য শ্রদ্ধার্ঘ্য। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ, আত্মত্যাগ এবং একজন ২১ বছর বয়সী সেনা কর্মকর্তার সাহসিকতা ছবিতে বাস্তব ও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি পাকিস্তানি সেনাদের কাছেও যে সম্মান অরুণ খেতারপাল অর্জন করেছিলেন, তা ছবির কাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণভাবে ফুটে উঠেছে।
সিনেমাটির শেষে বলা যায়, নতুন বছর শুরু করতে চাইলে গর্ব ও অনুপ্রেরণার অনুভূতি নিয়ে ‘ইক্কিস’ হতে পারে আদর্শ ছবি। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখার মতো একটি শক্তিশালী ও আবেগঘন চলচ্চিত্র এটি।
সূত্র: বলিউড বাবুল