ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে গভীর অর্থসংকটে জাতিসংঘ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ জানুয়ারি: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে আটক করার পর দেশটি ও গোটা অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এই সতর্কতা আসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে কয়েক ব্লক দূরেই যখন মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস একটি ম্যানহাটনের আদালতে হাজির হচ্ছিলেন, তখন নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে গুতেরেসের এই সতর্কবার্তা পড়ে শোনান জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিষয়ক প্রধান রোজমেরি ডিকার্লো।
গুতেরেস বলেন,
“ভেনেজুয়েলায় সম্ভাব্য অস্থিরতা বৃদ্ধি, এর আঞ্চলিক প্রভাব এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে এটি যে নজির স্থাপন করতে পারে, তা নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।”
তিনি ভেনেজুয়েলার সব পক্ষকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য জাতিসংঘ সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা দখল করতে চায় না এবং এটি কোনো যুদ্ধ নয়। তিনি অভিযানের ব্যাখ্যায় বলেন,
“এটি ছিল একটি সুনির্দিষ্ট আইন প্রয়োগকারী অভিযান। আমরা কোনো দেশ দখল করছি না।”
তিনি দাবি করেন, মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অভিযুক্ত একজন মাদক পাচারকারী এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাঁর বৈধতা নিয়েও জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
রাশিয়া ও চীনের কড়া প্রতিক্রিয়া
রাশিয়ার জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে যেকোনো সমস্যা সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত।
চীনের উপ-রাষ্ট্রদূত সুন লেই বলেন,
“যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা, অবৈধ ও দাদাগিরিমূলক পদক্ষেপে আমরা গভীরভাবে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ।”
ভেনেজুয়েলার অভিযোগ
ভেনেজুয়েলার জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত সামুয়েল মনকাদা এই অভিযানকে “আইনগত ভিত্তিহীন একটি অবৈধ সশস্ত্র হামলা” বলে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের কারণেই হস্তক্ষেপ করেছে।
মনকাদা বলেন, ভেনেজুয়েলায় সাংবিধানিক শাসন বহাল আছে এবং রাষ্ট্র পুরো ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি রাশিয়া, চীন, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতার কারণে নিরাপত্তা পরিষদে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অনেক দেশ আশঙ্কা করছে, এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যবস্থাকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।