কলকাতায় সোহরাওয়ার্দী সড়কের নাম পরিবর্তন ঘিরে বিতর্ক কেন
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একটি সড়কের নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহল, ইতিহাসবিদ এবং নাগরিক সমাজে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার…
মেলবোর্ন ১৪ জানুয়ারি: বন্ডাই বিচে ইহুদি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার এক মাস পার হতে না হতেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। গ্রিনস দলের সেনেটর মেহরিন ফারুকি অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানিয়ে আলবানিজ সরকার কার্যত “যুদ্ধাপরাধীদের জন্য লাল গালিচা সংবর্ধনা দিচ্ছে”।
গত ১৪ ডিসেম্বর বন্ডাই বিচে চানুকাহ উদ্যাপন চলাকালে দুই বন্দুকধারীর হামলায় ১৫ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। এই হামলাকে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট ইসাক হার্জগকে অস্ট্রেলিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল “বন্ডাই বিচে ইহুদিবিরোধী সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের সম্মান জানানো এবং অস্ট্রেলিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো”।

সামাজিক মাধ্যমে সেনেটর ফারুকির পোস্ট
কিন্তু এই সিদ্ধান্তকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন সেনেটর ফারুকি। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন,
“যে সপ্তাহে সরকার ঘৃণার বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার দাবি করছে, সেই সপ্তাহেই তারা এমন এক রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাচ্ছে, যে রাষ্ট্র চলমান গণহত্যায় লিপ্ত।”
তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের জন্য লাল গালিচা বিছিয়ে আপনি বর্ণবাদ রোধ করতে পারেন না।”
এই মন্তব্যের পাশে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ংয়ের স্কাই নিউজে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারের স্ক্রিনশটও শেয়ার করেন। সেখানে ওয়ং বলেন,
“আমার মনে হয় প্রেসিডেন্ট হার্জগের অস্ট্রেলিয়া সফর করা একটি ভালো বিষয়।
তিনি জানান, সফরের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেই আসবে এবং এটি গত এক মাসের আলোচনারই অংশ।
অস্ট্রেলিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের শীর্ষ সংগঠন এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ান জিউরি (ECAJ)-এর সহ-প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স রিভচিন ফারুকির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন,
“সেনেটরের নিজের বক্তব্যের জন্য লজ্জিত হওয়া উচিত। তিনি দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধকে গণহত্যা বলে মিথ্যা প্রচার করছেন। এই মিথ্যাই ইহুদি অস্ট্রেলীয়দের অমানবিক করে তুলেছে এবং উগ্র ইহুদিবিদ্বেষকে উসকে দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের বক্তব্যই শেষ পর্যন্ত ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর হামলার পরিবেশ তৈরি করেছে।
বিরোধী দলের পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র মাইকেলিয়া ক্যাশও ফারুকির বক্তব্যকে “বেপরোয়া, উসকানিমূলক ও ভুল” বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন,
“প্রেসিডেন্ট হার্জগ ইসরায়েলের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান। তার সফর সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং শান্তি ও নিরাপত্তায় ইসরায়েলের অধিকারকে সমর্থনের প্রতিফলন।”
দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুললেও আদালত এখনো ইসরায়েলকে দোষী সাব্যস্ত করেনি। আদালত শুধু জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে যাতে বেসামরিকদের সুরক্ষা, ঘৃণা উসকানি বন্ধ এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় ইসরায়েলে ১,২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয় এবং বহু মানুষকে জিম্মি করা হয়। এরপর ইসরায়েলের গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং মানবিক সংকট ভয়াবহ আকার নেয়।
এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের অস্ট্রেলিয়া সফর ও তা ঘিরে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ দেশটির বহুসাংস্কৃতিক সমাজে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au