‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন ১৪ জানুয়ারি: ইরান পরিস্থিতি এখন এমন এক মোড় নিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পিছু হটার জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন, যদি ইরানি সরকার নিজ জনগণের ওপর গুলি চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে। তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, “সহায়তা আসছে।” কিন্তু সেই সহায়তা কী, কখন এবং কীভাবে আসবে—তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
ইরানি শাসকগোষ্ঠী কার্যত ট্রাম্পের সেই লাল রেখা অতিক্রম করেছে। তথ্যপ্রবাহ সীমিত থাকলেও এটুকু স্পষ্ট যে শত শত, এমনকি হাজার হাজার মানুষ নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে। এই বাস্তবতায় ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ দ্রুত বাড়ছে।
সবচেয়ে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ হলো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এবং তাদের বেসামরিক দমন বাহিনী বাসিজ মিলিশিয়ার ঘাঁটি ও অস্ত্রগুদামে বিমান হামলা। বাসিজ হচ্ছে সেই বাহিনী, যারা রাস্তায় নেমে আন্দোলন দমন করে। তারা ইরানের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে ছড়িয়ে আছে। বিনিময়ে তারা বিশেষ সুবিধা পায়—চাকরি, বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা। তবে এর মূল্য হলো, যখনই আইআরজিসি ডাকে, তাদের ‘ইসলামি বিপ্লব রক্ষায়’ মাঠে নামতে হয়।
২০০৯ সালের বিক্ষোভে বাসিজ বাহিনীর ভূমিকা ছিল ভয়াবহ। কালো পোশাক, মুখ ঢাকা স্কার্ফ, হাতে লাঠি, ছুরি ও কখনো মাচেটি নিয়ে তারা মোটরসাইকেলে করে দল বেঁধে শহরে ঘুরত এবং কোনো সতর্কতা ছাড়াই বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালাত। বাসিজরা কার্যত দায়মুক্তির মধ্যেই হত্যা করে থাকে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বিক্ষোভকারীর সংখ্যা এত বেশি যে বাসিজ বাহিনী যদি কোনো জায়গায় ঢোকে, সেখানে পাল্টা প্রতিরোধের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। যদি কয়েকটি জায়গায় তারা পরাস্ত হয়, সেটাই হতে পারে সরকার পতনের টার্নিং পয়েন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প কেন বিমান হামলাকেই বেছে নিতে পারেন, তার একটি বাস্তব কারণ আছে। বর্তমানে ইরানের কাছে কোনো মার্কিন নৌবহর নেই, ফলে নৌ-ভিত্তিক আক্রমণ সম্ভব নয়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি থেকে দ্রুত আকাশপথে ব্যাপক হামলা চালানো সম্ভব।
যদিও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই ধরনের হামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন—তারা ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা করছে—তবুও ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা হলো, ইরান এখন বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় আছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগের হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো দুর্বল হয়েছে। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ফলে ইরানের পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা সীমিত।
ট্রাম্পের সামরিক দর্শনও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বড় আকারের যুদ্ধ চান না, যেখানে মার্কিন সেনা দীর্ঘদিন আটকে পড়ে। ইরাক, আফগানিস্তান ও ভিয়েতনামের মতো যুদ্ধ থেকে আমেরিকানরা ক্লান্ত। তাই ট্রাম্পের পছন্দ হচ্ছে স্বল্পমেয়াদি, নিখুঁত ও ‘সার্জিক্যাল’ অভিযান, যাতে মার্কিন প্রাণহানি শূন্য থাকে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার ও সরিয়ে নেওয়ার অভিযান ট্রাম্পকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। মার্কিন গোয়েন্দারা মাদুরোর প্রতিদিনের রুটিন পর্যন্ত জানত—কী খান, কীভাবে চলেন, এমনকি পোষা প্রাণীর আচরণও। সেই অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি। ট্রাম্পের সমর্থকেরা এটিকে বিশাল সাফল্য হিসেবে দেখছে। একইভাবে, গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলাও জনপ্রিয় হয়েছিল, কারণ তাতে মার্কিন কোনো প্রাণহানি হয়নি।
এখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলছেন যুক্তরাষ্ট্র “লকড অ্যান্ড লোডেড”—যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। আবার একই সঙ্গে তিনি নিজেকে পিছু হটার সুযোগও রেখে দিচ্ছেন। তিনি বলেছেন, “ওরা মানুষ মারছে বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু তা এখনো নিশ্চিত নয়।” তবে গোয়েন্দা রিপোর্টে খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যাবে।
এই সব কিছু মিলিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠছে—যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে বিমান হামলার সম্ভাবনা এখন অত্যন্ত প্রবল। ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে এমন অবস্থানে নিজেকে ঠেলে দিয়েছেন, যেখানে পদক্ষেপ না নিলে তিনি দুর্বল দেখাবেন, আর পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি বিপজ্জনক অধ্যায় শুরু হবে।
জন লায়ন্স, উত্তর আমেরিকা ব্যুরো প্রধান
এবিসি’র প্রতিবেদনের আলোকে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au