বিশ্ব

মতামত: ইরানে ট্রাম্পের পছন্দের সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার সম্ভাবনা এখন প্রবল

  • 6:30 pm - January 14, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৩৮০ বার
ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার । ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন ১৪ জানুয়ারি: ইরান পরিস্থিতি এখন এমন এক মোড় নিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পিছু হটার জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন, যদি ইরানি সরকার নিজ জনগণের ওপর গুলি চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে। তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, “সহায়তা আসছে।” কিন্তু সেই সহায়তা কী, কখন এবং কীভাবে আসবে—তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

ইরানি শাসকগোষ্ঠী কার্যত ট্রাম্পের সেই লাল রেখা অতিক্রম করেছে। তথ্যপ্রবাহ সীমিত থাকলেও এটুকু স্পষ্ট যে শত শত, এমনকি হাজার হাজার মানুষ নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে। এই বাস্তবতায় ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ দ্রুত বাড়ছে।

সবচেয়ে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ হলো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এবং তাদের বেসামরিক দমন বাহিনী বাসিজ মিলিশিয়ার ঘাঁটি ও অস্ত্রগুদামে বিমান হামলা। বাসিজ হচ্ছে সেই বাহিনী, যারা রাস্তায় নেমে আন্দোলন দমন করে। তারা ইরানের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে ছড়িয়ে আছে। বিনিময়ে তারা বিশেষ সুবিধা পায়—চাকরি, বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা। তবে এর মূল্য হলো, যখনই আইআরজিসি ডাকে, তাদের ‘ইসলামি বিপ্লব রক্ষায়’ মাঠে নামতে হয়।

২০০৯ সালের বিক্ষোভে বাসিজ বাহিনীর ভূমিকা ছিল ভয়াবহ। কালো পোশাক, মুখ ঢাকা স্কার্ফ, হাতে লাঠি, ছুরি ও কখনো মাচেটি নিয়ে তারা মোটরসাইকেলে করে দল বেঁধে শহরে ঘুরত এবং কোনো সতর্কতা ছাড়াই বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালাত। বাসিজরা কার্যত দায়মুক্তির মধ্যেই হত্যা করে থাকে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বিক্ষোভকারীর সংখ্যা এত বেশি যে বাসিজ বাহিনী যদি কোনো জায়গায় ঢোকে, সেখানে পাল্টা প্রতিরোধের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। যদি কয়েকটি জায়গায় তারা পরাস্ত হয়, সেটাই হতে পারে সরকার পতনের টার্নিং পয়েন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প কেন বিমান হামলাকেই বেছে নিতে পারেন, তার একটি বাস্তব কারণ আছে। বর্তমানে ইরানের কাছে কোনো মার্কিন নৌবহর নেই, ফলে নৌ-ভিত্তিক আক্রমণ সম্ভব নয়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি থেকে দ্রুত আকাশপথে ব্যাপক হামলা চালানো সম্ভব।

যদিও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই ধরনের হামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন—তারা ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা করছে—তবুও ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা হলো, ইরান এখন বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় আছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগের হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো দুর্বল হয়েছে। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ফলে ইরানের পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা সীমিত।

ট্রাম্পের সামরিক দর্শনও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বড় আকারের যুদ্ধ চান না, যেখানে মার্কিন সেনা দীর্ঘদিন আটকে পড়ে। ইরাক, আফগানিস্তান ও ভিয়েতনামের মতো যুদ্ধ থেকে আমেরিকানরা ক্লান্ত। তাই ট্রাম্পের পছন্দ হচ্ছে স্বল্পমেয়াদি, নিখুঁত ও ‘সার্জিক্যাল’ অভিযান, যাতে মার্কিন প্রাণহানি শূন্য থাকে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার ও সরিয়ে নেওয়ার অভিযান ট্রাম্পকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। মার্কিন গোয়েন্দারা মাদুরোর প্রতিদিনের রুটিন পর্যন্ত জানত—কী খান, কীভাবে চলেন, এমনকি পোষা প্রাণীর আচরণও। সেই অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি। ট্রাম্পের সমর্থকেরা এটিকে বিশাল সাফল্য হিসেবে দেখছে। একইভাবে, গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলাও জনপ্রিয় হয়েছিল, কারণ তাতে মার্কিন কোনো প্রাণহানি হয়নি।

এখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলছেন যুক্তরাষ্ট্র “লকড অ্যান্ড লোডেড”—যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। আবার একই সঙ্গে তিনি নিজেকে পিছু হটার সুযোগও রেখে দিচ্ছেন। তিনি বলেছেন, “ওরা মানুষ মারছে বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু তা এখনো নিশ্চিত নয়।” তবে গোয়েন্দা রিপোর্টে খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যাবে।

এই সব কিছু মিলিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠছে—যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে বিমান হামলার সম্ভাবনা এখন অত্যন্ত প্রবল। ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে এমন অবস্থানে নিজেকে ঠেলে দিয়েছেন, যেখানে পদক্ষেপ না নিলে তিনি দুর্বল দেখাবেন, আর পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি বিপজ্জনক অধ্যায় শুরু হবে।

জন লায়ন্স, উত্তর আমেরিকা ব্যুরো প্রধান

এবিসি’র প্রতিবেদনের আলোকে

এই শাখার আরও খবর

শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন, আতঙ্কে বিদেশগামী যাত্রীরা

ওটিএন বাংলা ডেস্ক : রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)…

সরকার চায় ঐক্য, একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী

দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চায় সরকার। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর…

ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে…

মসজিদে বয়ানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য খতিবের, নিরব প্রশাসন

ঢাকার খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকার টানপাড়ার জামতলা জামে মসজিদে জুমার বয়ানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রসাদ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে মসজিদটির অস্থায়ী খতিব…

কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, কী জানা যাচ্ছে?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু…

ফ্রান্সজুড়ে চলছে দাঙ্গা-লুটপাট, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au