চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন ২৫ জানুয়ারি- ভারতের ওপর আরোপিত উচ্চ মার্কিন শুল্ক আংশিকভাবে প্রত্যাহারের ইঙ্গিত মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোয় অন্তত ২৫ শতাংশ শুল্ক শিথিল করার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট জানান, রাশিয়ান তেল কেনার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির সাম্প্রতিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ কারণেই ভারতের ওপর আরোপিত মোট ৫০ শতাংশ শুল্কের একটি অংশ তুলে নেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র দুই ধাপে ভারতের ওপর এই শুল্ক আরোপ করেছিল। প্রথমে বাণিজ্য ঘাটতির অভিযোগ তুলে ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়। পরে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে গিয়ে, ভারতের রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রাখার কারণে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। ফলে মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে।
স্কট বেসেন্ট বলেন, ভারতের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এর ফলে ভারত রাশিয়ান তেল কেনা কমিয়েছে। শুল্ক এখনো বহাল রয়েছে, তবে তা প্রত্যাহারের একটি বাস্তবসম্মত সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এর আগে দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও বেসেন্ট একই দাবি করেন। তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ভারত রাশিয়ান তেল আমদানি বাড়ালেও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপের পর সেই আমদানি ক্রমশ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, ভবিষ্যতে ভারত রাশিয়ান তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করবে।
বেসেন্টের মন্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর বাণিজ্য নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের আভাস মিলছে। গত বছরের আগস্টে শুল্ক আরোপের পর নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হলেও, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উভয় দেশই উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং একটি পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
যদিও সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বেসরকারি খাত রাশিয়ান তেল আমদানি কমিয়েছে, তবে ভারত সরকার দাবি করেছে যে রাশিয়া থেকে তেল কেনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। নয়াদিল্লি বরাবরই বলে এসেছে, তাদের জ্বালানি নীতি জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নির্ধারিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে তারা অন্যায় ও অযৌক্তিক বলে মনে করে।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোকে বর্জন করলে, ছাড়ে রুশ অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতায় পরিণত হয়। এই প্রেক্ষাপটেই ভারতের ওপর আরোপিত মার্কিন শুল্ক শিথিলের সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au