মেলবোর্ন ২৫ জানুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শক্তিশালী শীতকালীন ঝড়ের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন ও বিমান চলাচল। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) থেকে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) পর্যন্ত দেশটিতে ১৪ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। তীব্র ঠান্ডা, ভারী তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
ঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০টি রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। পূর্বাঞ্চলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় বিপজ্জনক আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকান এয়ারলাইন্সের প্রায় ৪৩ শতাংশ এবং ডেল্টা এয়ার লাইন্সের ৩৫ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। শনিবার একদিনেই বাতিল হয় চার হাজারের বেশি ফ্লাইট, যার বড় অংশ ছিল ডালাস ও শার্লটগামী। সোমবার পর্যন্ত নিউইয়র্ক ও বোস্টনকে কেন্দ্র করে আরও অন্তত ১,৬০০ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
জরুরি অবস্থার আওতায় থাকা টেনেসি, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, মেরিল্যান্ড, আরকানসাস, কেন্টাকি, লুইসিয়ানা, মিসিসিপি, ইন্ডিয়ানা ও পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় প্রশাসন জরুরি ব্যবস্থাপনা দলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। সম্ভাব্য বিদ্যুৎ বিভ্রাট, সড়ক দুর্ঘটনা ও তীব্র ঠান্ডাজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা জানিয়েছে, সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত ঝড়টি পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বয়ে যাবে। উত্তর-পূর্ব ও মধ্য সমভূমি অঞ্চলে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও রাতের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, ঝড়ের সঙ্গে ভারী তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি ও হিমশীতল বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণাঞ্চলে বজ্রপাত ও বরফ জমার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নয়েম জনগণকে অপ্রয়োজনে রাস্তায় বের না হতে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: সিএনএন