নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতায় পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ২৪
মেলবোর্ন, ২১ জুন- পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা পুরো অঞ্চলকে গভীর সংকটে ফেলেছে। কয়েক…
মেলবোর্ন, ৩০ জানুয়ারি- পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে পৃথক দুটি সামরিক অভিযানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠির সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষে মোট ৪১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এ তথ্য জানিয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) জিও নিউজ এই খবর প্রকাশ করে।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, নিহত সন্ত্রাসীরা ফিতনা আল-খারিজ এবং ফিতনা আল-হিন্দুস্তান নামে পরিচিত গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। ২৯ জানুয়ারি নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান দুটি পরিচালনা করা হয়।
প্রথম অভিযানটি চালানো হয় বেলুচিস্তানের হরনাই জেলার উপকণ্ঠে। সেখানে ফিতনা আল-খারিজ গোষ্ঠীর সন্ত্রাসীদের অবস্থানের খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শুরু করে। অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের আস্তানায় কার্যকরভাবে আঘাত হানা হয়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি হয়। সংঘর্ষ শেষে ভারত-সমর্থিত ৩০ জন খারিজি সন্ত্রাসী নিহত হয় বলে আইএসপিআর জানায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিহত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক ঘটনাস্থলেই নিরাপদভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
এরপর একই দিনে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বেলুচিস্তানের পাঞ্জগুর জেলায় আরেকটি পৃথক অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে একটি সন্ত্রাসী আস্তানা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয় এবং ফিতনা আল-হিন্দুস্তান গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ১১ জন ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসীকে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
আইএসপিআর জানায়, পাঞ্জগুরে নিহত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদের পাশাপাশি ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাঞ্জগুর এলাকায় সংঘটিত একটি ব্যাংক ডাকাতির লুট করা অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এসব সন্ত্রাসী অতীতেও একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরনাই ও পাঞ্জগুর উভয় এলাকায় এখনো তল্লাশি অভিযান চলছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে আজম-ই-ইস্তেহকাম ভিশনের আওতায় বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে।
আইএসপিআর আরও উল্লেখ করে, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে আফগানিস্তানের সীমান্তসংলগ্ন খাইবার পাখতুনখাওয়া এবং বেলুচিস্তান প্রদেশ এসব হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, ২০২৫ সালে পাকিস্তানজুড়ে মোট ৭৫ হাজার ১৭৫টি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ১৪ হাজার ৬৫৮টি, বেলুচিস্তানে ৫৮ হাজার ৭৭৮টি এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় ১ হাজার ৭৩৯টি অভিযান চালানো হয়।
তিনি আরও জানান, গত বছর পাকিস্তানে মোট ৫ হাজার ৩৯৭টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ৩ হাজার ৮১১টি, বেলুচিস্তানে ১ হাজার ৫৫৭টি এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় ২৯টি হামলা হয়েছে। এসব অভিযানে মোট ২ হাজার ৫৯৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au