আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের ঘোষণা বেটসের
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- দীর্ঘ দুই দশকের গৌরবময় ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের অন্যতম সেরা তারকা সুজি বেটস। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেই…
মেলবোর্ন, ১ ফেব্রুয়ারি- শেখ হাসিনার নির্বাসন ও খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী পদে কোনও নারী প্রার্থী নেই। দুইবার নারী নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা বাংলাদেশে এই শূন্যতা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হলেও নির্বাচনী রাজনীতির কেন্দ্র থেকে তাদের সরে যাওয়া উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি মানবাধিকারকর্মী ও চিকিৎসা বিজ্ঞানী শামারুহ মির্জা বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতির বড় অংশই এসেছে নারীদের শ্রম ও অবদানের মাধ্যমে। কিন্তু সেই নারীরাই রাজনৈতিক ক্ষমতার ক্ষেত্রে ক্রমেই প্রান্তিক হয়ে পড়ছেন। তার ভাষায়, নারীদের বাদ দিয়ে কোনও অর্থবহ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্ভব নয়। সংসদ থেকেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো গড়ে ওঠে। সংসদ যদি পুরুষশাসিত হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানগুলোও পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গিতেই গড়ে উঠবে।
দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকারের পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন নিয়ে তিনি আশাবাদী হলেও পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলেন। শামারুহ মির্জার মতে, ৫ আগস্ট ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীর ভাঙনের মুহূর্ত। বছরের পর বছর নিপীড়ন, রাজনৈতিক নির্যাতন, অর্থ পাচার ও লুটপাটের পর সেই সময় একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতন ঘটে। তবে এরপর যে গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রয়োজন ছিল, তা যথাসময়ে সম্পন্ন হয়নি।
তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে তিনটি বড় দায়িত্ব ছিল। প্রথমত, নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর। দ্বিতীয়ত, গত ১৬ বছরে সংঘটিত অপরাধের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার। কিন্তু সরকার সংস্কার কমিশন ও দীর্ঘ আলোচনায় বেশি মনোযোগ দিয়েছে, ফলে নির্বাচন ও বিচার প্রক্রিয়ায় দেরি হয়েছে। বিচার কার্যক্রম শেষ পর্যন্ত কিছু স্বস্তি দিলেও এর প্রক্রিয়া ও সময় নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করা এই মানবাধিকারকর্মীর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন নারীদের রাজনৈতিক অনুপস্থিতি। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই রাজপথে নেমেছিল। অথচ সেই আন্দোলনের পর জাতীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা পাঁচ শতাংশেরও কম। বিএনপি কিছু নারী প্রার্থী দিলেও অন্য জোটগুলোতে নারীদের উপস্থিতি অত্যন্ত সীমিত। ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে জোটের প্রতিবাদে কয়েকজন নারী নেত্রীর পদত্যাগও এই সংকটকে আরও স্পষ্ট করেছে।
ছাত্রনেতৃত্বে গড়ে ওঠা নতুন রাজনৈতিক শক্তি নিয়েও তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। তার মতে, মানুষ আশা করেছিল নতুন রাজনীতি, নতুন চিন্তা ও নতুন কাঠামোর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি কেবল ক্ষমতালোভী জোটই গড়ে ওঠে, তাহলে নতুন রাজনীতির ধারণা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
বিএনপি ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি প্রবাসীদের প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন শামারুহ মির্জা। তিনি বলেন, তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা প্রস্তাবনায় নারীদের অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও সফরে একটি সরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব তাকে হতবাক করেছে। শিক্ষা সংস্কার ও নারীর নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রস্তাবকে তিনি বাস্তব ক্ষমতায়নের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা প্রসঙ্গে শামারুহ মির্জা বলেন, বড় গণঅভ্যুত্থানের পর কিছুটা অস্থিরতা স্বাভাবিক। তবে সরকার আরও দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারত। সাম্প্রদায়িক হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, বেশিরভাগ ঘটনাই ধর্মীয় নয়, বরং জমি, সম্পত্তি বা কর্মসংস্থানসংক্রান্ত বিরোধ থেকে উদ্ভূত। তবু সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী মানসিকভাবে বেশি ঝুঁকিতে থাকে, তাই তাদের নিরাপত্তা ও আস্থার বিষয়টি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
তার মতে, বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হলে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের বিকল্প নেই। উন্নয়নের ভার নারীদের কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে রাজনীতিতে তাদের দূরে রাখার প্রবণতা ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত বলেই মনে করেন তিনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au