পাঁচ মাসে ১,৪৫২ হত্যা মামলা, অপরাধের লাগাম টানতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার
মেলবোর্ন, ২২ জুন- খুন, ধর্ষণ, মব সহিংসতা, গণপিটুনি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের ঘটনা দেশে উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। প্রতিদিন দেশের কোনো না কোনো স্থানে…
মেলবোর্ন ২ ফেব্রুয়ারি- ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা পাওয়া তরুণ বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তার আইনজীবীর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আইনজীবী আমির মুসাখানি জানান, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) প্রায় ১২ হাজার ৬০০ ডলার জামিনে ২৬ বছর বয়সি দোকানি এরফান সোলতানি মুক্তি পান। মুক্তির সময় তার কাছ থেকে জব্দ করা মুঠোফোনসহ সব ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ফেরত দেওয়া হয়েছে। নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসসহ ইরানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও তার জামিনে মুক্তির খবর নিশ্চিত করেছে।
ডলারের বিপরীতে রিয়ালের রেকর্ড দরপতন, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ ও কেরমানশাহসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
এই বিক্ষোভের মধ্যেই গত ৮ জানুয়ারি তেহরানের উত্তর-পশ্চিমের শহর কারাজের ফারদিস এলাকা থেকে এরফান সোলতানিকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের মাত্র তিন দিনের মাথায় তার পরিবারকে জানানো হয়, বিচার শেষ হয়েছে এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এমনকি ১৪ জানুয়ারি তার ফাঁসি কার্যকরের তারিখও জানানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ডের খবর প্রথম প্রকাশ করে হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস। বিষয়টি সামনে আসার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মাত্র কয়েক দিনের বিচারে একজন বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো গুরুতর অন্যায় বলে আখ্যা দেয়। পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনাও আরও জোরালো হয়।
এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে।
আন্তর্জাতিক চাপ ও সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত ইরান অবস্থান পরিবর্তন করে। দেশটির একটি আদালত এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ডের সাজা বাতিল করে তা কারাদণ্ডে রূপান্তর করে। বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়েছে।
এরপরই জামিনে মুক্তি পেলেন এই তরুণ বিক্ষোভকারী। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই মুক্তি আন্তর্জাতিক চাপের ফল হলেও ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিচার ও শাস্তির বিষয়ে উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au