নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতায় পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ২৪
মেলবোর্ন, ২১ জুন- পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা পুরো অঞ্চলকে গভীর সংকটে ফেলেছে। কয়েক…
মেলবোর্ন, ৩ ফেব্রুয়ারি- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সদস্যদের শপথ কে পাঠ করাবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক জটিলতা। সংবিধান অনুযায়ী এই দায়িত্ব আগের সংসদের স্পিকারের ওপর বর্তালেও বাস্তব পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সংসদ সচিবালয়।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের তৎকালীন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে দ্বাদশ সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি। এই অবস্থায় নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংবিধানের ৭৪ (৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত আগের সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার নিজ নিজ পদে বহাল আছেন বলে গণ্য হবেন। ফলে বিদায়ী স্পিকার বা তাঁর অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকারেরই শপথ পড়ানোর কথা। এ অবস্থায় সংসদ সচিবালয় ‘উপযুক্ত ব্যক্তি’ নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়ায় আইনি ও সাংবিধানিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে গত ২৮ জানুয়ারি সংসদ সচিবালয় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর বিষয়ে মতামত চেয়ে সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কাছে একটি নথি উত্থাপন করে। উপদেষ্টার সম্মতির পর বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে সারসংক্ষেপ যাবে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে। রাষ্ট্রপতির সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তী আদেশ জারি করা হবে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা এ বিষয়ে বলেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে কে শপথ পড়াবেন, সে সিদ্ধান্ত সরকারই নেবে।
সংবিধানের ১৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদায়ী স্পিকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। ১৪৮ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্পিকার মনোনীত কোনো ব্যক্তির কাছেও সংসদ সদস্যরা শপথ নিতে পারবেন। আর ১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে যদি স্পিকার বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি শপথ না পড়ান, তাহলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই শপথ পড়াবেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী পদত্যাগ করলেও সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো বিদায়ী স্পিকারের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। কেবল ব্যত্যয় ঘটলে বিকল্প ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এবারের সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিধান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংস্কার পরিষদের সদস্যদেরও আলাদা করে শপথ নিতে হবে।
এই বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ জানান, যিনি সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন, তিনিই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ পড়াবেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের তপশিল-১ এ এ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।
সংবিধানের ৭৪ (২) অনুচ্ছেদে স্পিকারের পদত্যাগ ও অপসারণের বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে স্পিকার পদত্যাগ করতে পারেন। ৭৪ (৬) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদ ভেঙে দেওয়া হলেও নতুন স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত আগের স্পিকার পদে বহাল থাকবেন।
এ ছাড়া ৭৪ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমানে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে রয়েছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করেন।
স্পিকারের পদত্যাগের পর সংসদ সচিবালয়ের কার্যক্রম চালু রাখতে সরকার ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর একটি অধ্যাদেশ জারি করে। এতে বলা হয়, সংসদ কার্যক্রম–সংক্রান্ত দায়িত্ব ছাড়া স্পিকারের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা পালন করবেন।
এই অধ্যাদেশের আওতায় একটি কমিশনও গঠন করা হয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সদস্য হিসেবে রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং অর্থ বিভাগের সচিব।
উপদেষ্টা পরিষদের একটি সূত্র জানিয়েছে, সংসদ সচিবালয়ের পাঠানো নথির ভিত্তিতে সরকার এখন শপথ পড়ানোর জন্য ‘উপযুক্ত ব্যক্তি’ নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ ক্ষেত্রে সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নামও আলোচনায় রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গত রাতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরুর আগে শপথ প্রশ্নের এই অনিশ্চয়তা দেশের সাংবিধানিক কাঠামো ও রাজনৈতিক বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ এক পরীক্ষা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুত্রঃ সমকাল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au