বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা স্ক. বশির উদ্দিন ও জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরিই ইওও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ছবি: সরবরাহকৃত
মেলবোর্ন,৭ ফেব্রুয়ারি: টোকিওতে গতকাল ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি বা ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো দেশের সঙ্গে প্রথম এ ধরনের চুক্তি। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা বশির উদ্দিন এবং জাপানের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরিই ইওও নিজ নিজ সরকারের হয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে এই চুক্তিকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই চুক্তির আওতায় তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের প্রায় ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। ফলে জাপানের মতো উচ্চমানের ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পোশাক খাতে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কাঁচামালের উৎসসংক্রান্ত জটিল শর্ত শিথিল হবে এবং জাপানে পোশাক রপ্তানি আরও সহজ হবে।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সেবা খাতে দক্ষ জনশক্তির জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি। তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিক্ষা, কেয়ারগিভিং ও নার্সিংসহ ১৬টি প্রধান শ্রেণির আওতায় ১২০টি সেবা খাতে বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য জাপানে কাজের সুযোগ তৈরি হবে। এতে একদিকে জাপানের দক্ষ জনবলের চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে বাংলাদেশি তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের নতুন দরজা খুলবে।
পারস্পরিক সুবিধার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্য ও ১২টি প্রধান শ্রেণির অধীনে ৯৮টি উপখাতে শুল্কমুক্ত বা বিশেষ ছাড় সুবিধা দেবে। এতে দুই দেশের মধ্যে আমদানি–রপ্তানির ভারসাম্য আরও শক্তিশালী হবে এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক গভীরতর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাণিজ্যের পাশাপাশি এই চুক্তি জাপানি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অবকাঠামো, জ্বালানি, পরিবহন, লজিস্টিকস ও আধুনিক প্রযুক্তি খাতে জাপানের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তর বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থনীতিবিদরা।
দুই দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি কেবল শুল্ক হ্রাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার একটি কাঠামো তৈরি করবে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, স্বচ্ছ নিয়মকানুন এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে জাপান ও বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আরও গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।