তীব্র বিক্ষোভের মুখে বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
মেলবোর্ন, ২১ জুন- টানা ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন…
মেলবোর্ন, ১১ ফেব্রুয়ারি- ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তাপ চূড়ান্ত পর্যায়ে। পরিবর্তনের প্রত্যাশা, ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস এবং সাংবিধানিক বিতর্কের মাঝেই ভোটের লড়াই ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অস্থিরতার পর এই নির্বাচনকে অনেকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবতা হয়তো আরও জটিল।
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় আলাদা বলা হলেও শুরু থেকেই তা বিতর্কে ঘেরা। দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিকে বাইরে রেখে নির্বাচন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপি, যার নেতৃত্বে আছেন তারেক রহমান, ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন করলেও এবার তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে।
প্রথম আলোর একাধিক জরিপে ভোটের সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। এক জরিপে দেখা যায়, উল্লেখযোগ্য অংশের মানুষ আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ চান। আবার সম্ভাব্য ভোটের হিসাবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এগিয়ে। পরবর্তী জরিপে দুই দলই প্রায় সমানে সমান অবস্থানে চলে আসে।
রাজনীতির মাঠে গত দেড় বছরে জামায়াতে ইসলামীর প্রভাব বেড়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্র রাজনীতিতেও তাদের অগ্রগতি লক্ষণীয়। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে নানা অভিযোগ রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
সর্বশেষ জরিপগুলো দেখায়, একটি বড় অংশের ভোটার দীর্ঘদিন অনির্ধারিত ছিলেন, যাদের মধ্যে নারীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। গত দেড় বছরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক চাপে নারীরা সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন। প্রার্থীদের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ কম হওয়াও আলোচনায় এসেছে।
জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের এক মন্তব্য ঘিরে নারী সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ ভোটের হিসাব বদলাতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে অনির্ধারিত ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোন দিকে যাবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
ফেব্রুয়ারির শুরুতে প্রকাশিত জরিপে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে ব্যবধান অত্যন্ত কম দেখা গেছে। অনির্ধারিত ভোটার কমে আসায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একাংশ নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছে। ভোটার উপস্থিতি কতটা হবে, সেটিও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা ও নতুন ভোটার যুক্ত হওয়া নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, যা নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
নির্বাচনের পর কোনো একক দল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে জোটভিত্তিক সরকার গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলে জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের আলোচনাও চলছে। ইউনূসের সম্ভাব্য সাংবিধানিক ভূমিকা এবং রাষ্ট্রপতি পদের প্রশ্নটিও আলোচনার কেন্দ্রে।
একই দিনে জুলাই ন্যাশনাল চার্টার ২০২৫ নিয়ে গণভোটের আয়োজন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি অন্যতম। সংবিধানে গণভোটের বিধান ও অন্তর্বর্তী সরকারের এখতিয়ার নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
মোহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হবেন কি না, সেটি কেবল ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রশ্ন নয়, বরং নতুন সরকারের স্থিতিশীলতার সঙ্গেও জড়িত। অর্থনৈতিক চাপ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ এবং রাজনৈতিক বিভাজন দেশের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে।
ফল যা-ই হোক, এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে বিবেচিত হবে। ভোটের রায়ই নির্ধারণ করবে পরিবর্তনের দিক কোন পথে যাবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au