তীব্র বিক্ষোভের মুখে বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
মেলবোর্ন, ২১ জুন- টানা ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন…
মেলবোর্ন, ১৩ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশের সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া, ইউরোপ থেকে শুরু করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে দিনভর লাইভ আপডেট ও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ভোটের পরিবেশ, রাজনৈতিক পালাবদল এবং আঞ্চলিক কূটনীতির প্রশ্ন।
BBC–এর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সংবাদদাতা যোগিতা লিমায়ে এবারের নির্বাচনী পরিবেশকে অতীতের তুলনায় ভিন্ন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় শেখ হাসিনার শাসনামলে যে সীমাবদ্ধ পরিবেশ দেখেছিলেন, এবার তা একেবারেই আলাদা। তার পর্যবেক্ষণে, এবার বিভিন্ন দলের পোস্টার ও সক্রিয়তা দৃশ্যমান এবং ভোটারদের মধ্যে প্রত্যাশা ও উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। তবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনের অবাধতা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গোপালগঞ্জে ভোটার উপস্থিতি সকালে কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে তা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম NDTV তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, দেশের দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি নেতা তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং তার সক্রিয় অংশগ্রহণকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়েছে।
অন্যদিকে The Hindu জানায়, দেশের অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে বিপুলসংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পুলিশ সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশে সংখ্যালঘু বলে আলাদা কোনো শ্রেণি নেই, প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা সমান।
জার্মানিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Deutsche Welle তাদের বিশ্লেষণে বলেছে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে জোটবদ্ধ ইসলামপন্থি শক্তির উত্থান এবারের নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাধীনতার পর এই প্রথম ইসলামপন্থি দলগুলো সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের প্রশ্ন নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো ও আঞ্চলিক কূটনীতির দিকনির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au