সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদ ও কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি
মেলবোর্ন, ২৮ এপ্রিল- ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রাজনীতিবিদ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার লোকদের ওপরও নেমে আসে নির্মম…
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুযায়ী এদিন ২৯৭ জন সদস্যের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা এয়োদশ জাতীয় সংসদ হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। মঙ্গলবার সকালে শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এ সিদ্ধান্ত জানান।
হাতে ফর্ম দেখিয়ে তিনি বলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেওয়াবেন, সেটা বিধান করতে হবে এবং কোনো এরকম ফর্ম—এটা সংবিধানে নেই। “এই ফর্মটি তৃতীয় তফসিলে আছে, সাদাটা। এই রকম তখন একটা ফর্ম সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে আসবে। সেগুলো সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদে গৃহীত হওয়ার পরে তখন জাতীয় সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান করা যাবে বিধায় আমরা এখন সাংবিধানিকভাবে এই পর্যন্ত আমরা এসেছি।”
দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রথমে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবার সংসদ সদস্যরা স্পিকারের পরিবর্তে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকে শপথ নেন। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রকাশ্যে নেই এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শপথের আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির নবনির্বাচিত সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে এখনই শপথ নেবেন না। তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হলে তা আগে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কে শপথ পড়াবেন, কী ধরনের শপথপত্র হবে এবং তার সাংবিধানিক ভিত্তি কী হবে, তা স্পষ্ট বিধানে থাকতে হবে। বর্তমানে সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে এ ধরনের কোনো ফরম্যাট নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শপথ অনুষ্ঠানে তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তার ডান পাশে ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং বাম পাশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সামনের সারিতে আরও উপস্থিত ছিলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, জেড এম জাহিদ এবং আন্দালিব রহমান পার্থ।
হবু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা তারেক রহমানসহ বিএনপির সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে একসঙ্গে শপথবাক্য পাঠ করেন। শপথে তারা বলেন, আইন অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন, বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য বজায় রাখবেন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করবেন।
শপথ পাঠ শেষে সদস্যরা নিজ নিজ আসনের নাম উল্লেখ করে শপথপত্রে স্বাক্ষর করেন। পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিব কানিজ মওলা। এরপর ক্রমানুসারে অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au