সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৮ এপ্রিল- জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা মামলা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগসহ মোট পাঁচটি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির বেঞ্চ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন এবং এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের স্থগিত চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দেন।
আদালতে শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল জব্বার ভুঁইয়া যুক্তি তুলে ধরে বলেন, খায়রুল হকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাই এ পর্যায়ে জামিন দেওয়া সমীচীন হবে না। তিনি আরও বলেন, মামলাগুলোর তদন্ত সম্পন্ন করতে অন্তত ছয় মাস সময় প্রয়োজন। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নাকচ করে দিয়ে হাইকোর্টের জামিন আদেশ বহাল রাখেন।
তবে আদালতের এই আদেশ সত্ত্বেও সাবেক প্রধান বিচারপতি এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে আরও মামলা বিচারাধীন থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারামুক্তি সম্ভব নয়।
এর আগে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এই হত্যা মামলার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত একটি রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন একটি মামলা করেন।
এছাড়া একই ধরনের অভিযোগে ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভুঁইয়া আরেকটি মামলা দায়ের করেন। একই দিনে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় নুরুল ইসলাম মোল্লা নামে আরেক ব্যক্তি একই অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন।
এরও আগে ৪ আগস্ট প্লট জালিয়াতির মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন একটি পৃথক মামলা দায়ের করে।
এসব মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আদালতের সর্বশেষ এই আদেশে তার জামিন বহাল থাকলেও সামগ্রিক আইনি পরিস্থিতির কারণে তাৎক্ষণিক মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়নি।