সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদ ও কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি
মেলবোর্ন, ২৮ এপ্রিল- ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রাজনীতিবিদ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার লোকদের ওপরও নেমে আসে নির্মম…
মেলবোর্ন, ১৮ ফেব্রুয়ারি- নতুন জাতীয় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও ইতিমধ্যেই শপথ গ্রহণ করেছেন। নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদে কে থাকবেন বা কবে নির্বাচন হবে, তা নিয়ে দেশে রাজনৈতিক ও সংবিধানিক আলোচনা তীব্র হয়েছে।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য না হওয়া পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নিতে পারবেন না। যদি রাষ্ট্রপতি পদে শূন্যতা আসে—পদত্যাগ, মেয়াদ শেষ বা অভিশংসনজনিত কারণে—তবে নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করে।
আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ কাজী জাহেদ ইকবাল বলছেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন সংসদ কার্যক্রমের মধ্যেই এই নির্বাচন শুরু হয়। রাষ্ট্রপতির নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী, এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুইবার রাষ্ট্রপতির পদে থাকতে পারেন। একক প্রার্থী হলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয় না।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বর্তমানে সীমিত। তবে ২০২৩ সালের জুলাই সনদে প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এতে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিজ এখতিয়ারে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে থাকবে। তবে এটি কার্যকর করতে হলে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, যা এখনো সময়সাপেক্ষ বিষয়।
রাজনীতিবিদ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন সংসদ ও সরকারের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরই রাষ্ট্রপতি পদ পরিবর্তনের প্রশ্ন সামনে আসবে। স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা হলে অভিশংসনের প্রয়োজন হবে না। রাষ্ট্রপতি নিজেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পদত্যাগ করার, তাই নতুন নির্বাচনের ক্ষেত্রে জটিলতা কম হবে।
সংক্ষেপে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে নতুন সংসদ ও সরকার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর, সংবিধান অনুযায়ী। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোট প্রক্রিয়া তদারকি করবেন এবং নির্বাচন স্পিকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হবে। রাষ্ট্রপতির পদে নতুন নির্বাচন দেশীয় রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন করে আকৃতি দিতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au