৯২ শতাংশ ইসরায়েলি বিশ্বাস করেন ‘যুদ্ধে ইরান জয়ী হয়েছে’
মেলবোর্ন, ২১ জুন- সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন এক জনমত জরিপে দেখা…
মেলবোর্ন, ২০ ফেব্রুয়ারি- পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে গত আট মাসে পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ’-এ ৯০০–র বেশি সন্দেহভাজন নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এসব ঘটনায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ অবশ্য দাবি করছে, অপরাধ দমনে অভিযান চালাতে গিয়ে আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ার ফলেই এসব মৃত্যু ঘটেছে।
গতকাল ১৮ ফেব্রুয়ারি আল জাজিরা প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। এতে পাকিস্তান মানবাধিকার কমিশন বা পাকিস্তান মানবাধিকার কমিশন-এর তথ্য উদ্ধৃত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত নভেম্বরে পাঞ্জাবের ভাওয়ালপুরে জুবাইদা বিবির বাড়ি ঘিরে ফেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ বা সিসিডির সশস্ত্র সদস্যরা। পরিবারের অভিযোগ, তারা ঘর তছনছ করে মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। পরে জুবাইদা বিবির তিন ছেলে ইমরান (২৫), ইরফান (২৩), আদনান (১৮) এবং দুই মেয়ের জামাইকে আটক করা হয়।
পরিবারের ভাষ্য, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলায় পৃথক পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়।
জুবাইদা বিবি মানবাধিকার কমিশনকে বলেন, ছেলেদের মুক্তির জন্য তিনি লাহোর পর্যন্ত গিয়েছিলেন। পরদিন জানতে পারেন, তারা সবাই নিহত। আইনি পদক্ষেপ নিতে চাইলে তাকেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তার স্বামী আবদুল জাব্বার বলেন, তাদের ছেলেরা অপরাধী ছিল না, তারা কর্মজীবী ও বিবাহিত ছিল।
মানবাধিকার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে ৬৭০টি ‘গোলাগুলির’ ঘটনায় ৯২৪ জন সন্দেহভাজন নিহত হন। সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় একই বছরের এপ্রিলে সিসিডি গঠন করা হয়।
এই বাহিনী গঠনের নির্দেশ দেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়াম নওয়াজ শরিফ। ‘নিরাপদ পাঞ্জাব’ গড়ার লক্ষ্যে নেওয়া এই উদ্যোগের পর থেকেই কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা বাড়তে থাকে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সময়ে দুই পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৩৬ জন আহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব ঘটনার বিবরণ প্রায় একই রকম। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অন্ধকারে অভিযুক্তরা আগে গুলি চালায়, আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি ছুড়লে তারা নিহত হয়। মানবাধিকার কমিশনের দাবি, ভিন্ন ভিন্ন ঘটনায় প্রায় একই ভাষার বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে, যা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
লাহোরভিত্তিক মানবাধিকার আইনজীবী আসাদ জামাল বলেন, প্রাদেশিক সরকার অপরাধ কমার দাবি করলেও জবাবদিহির ঘাটতি স্পষ্ট। তার মতে, অপরাধ কমেছে বললে এসব মৃত্যুকে কার্যত বৈধতা দেওয়া হয়।
সিসিডি অবশ্য বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধী চক্র ভেঙে দেওয়া হচ্ছে এবং ২০২৫ সালের সাত মাসে আগের বছরের তুলনায় অপরাধ ৬০ শতাংশের বেশি কমেছে।
মানবাধিকার কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত গত এক দশকে পাকিস্তানজুড়ে প্রায় পাঁচ হাজার ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়েছে, যার অন্তত দুই হাজার ঘটেছে পাঞ্জাবে। দেশটির প্রায় ২৫ কোটি মানুষের মধ্যে অর্ধেকের বাস এই প্রদেশে। জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় অপরাধের হার তুলনামূলক বেশি হতে পারে, তবে সাম্প্রতিক মৃত্যুর সংখ্যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au