আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২০ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশে নবনির্বাচিত সরকারের সামনে ‘মব ভায়োলেন্স’ বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দায়িত্ব গ্রহণের পরই ঘোষণা দিয়েছেন, ‘মব কালচারের দিন শেষ’। তিনি জানিয়েছেন, দাবি আদায়ের নামে আর কোনো ‘মব কালচার’ বা দলবদ্ধ সহিংসতা করা যাবে না, তবে যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য মিছিল, সমাবেশ বা স্মারকলিপি দেওয়া সম্ভব।
মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার কারণে সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিপন্ন হয়েছিল। তখন মব তৈরি করে নিরপরাধ মানুষ, ব্যবসায়ী বা রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। কখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ২০২৫ সালে মব সহিংসতা বিশেষভাবে প্রকট হয়ে উঠেছিল। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালে ৪৬০ জন মানুষকে মব জাস্টিস বা গণপিটুনির মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়ায় অপরাধীরা মব সহিংসতায় উৎসাহ পেয়েছে। দলবদ্ধ অপরাধের ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রেই সরকার নির্লিপ্ত ছিল। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তখন বলেছিলেন, ‘মব ভায়োলেন্স বলতে কোনো কিছু নেই’, যা সমালোচনার বিষয় হয়েছিল।
দলবদ্ধ সহিংসতা ইতিহাসে নতুন নয়। অতীতেও রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে মব সহিংসতা ব্যবহার হয়েছে দাবি আদায় বা ক্ষমতা হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত পাঁচ বছরে মব সহিংসতায় ২১৫ জন নিহত হয়েছেন। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সময় ১২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালে দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলায় মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২০০ জনের। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নির্লিপ্ততা এবং রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা এই সহিংসতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
নতুন সরকারের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন মনে করেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব। অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, বিচারের ক্ষেত্রে দলীয় পক্ষপাত থাকলে কোনো লাভ হবে না।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রংপুরের পীরগঞ্জে সিলযুক্ত ব্যালট উদ্ধারের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দলবদ্ধভাবে হেনস্তা ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এটি নতুন সরকারের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর কঠিন পরীক্ষা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘দাবি আদায়ের নামে মব কালচার বন্ধ হবে, তবে যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য মিছিল ও সমাবেশ করার সুযোগ থাকবে’। মানবাধিকার কর্মী ও বিশেষজ্ঞরা এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও তারা মনে করছেন, নতুন সরকার কতটা নিরপেক্ষভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে পারবে, তা সময়ই দেখাবে। মব সহিংসতা প্রতিরোধ সরকারের সদিচ্ছা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au