মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন ২২ ফেব্রুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালায় ভয়াবহ তুষারধসে ছয় ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ও তিন পেশাদার গাইডসহ মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত প্রায় ৪৫ বছরের মধ্যে দেশটিতে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী তুষারধসের ঘটনা।
নিহতরা তিন দিনের একটি ব্যাককান্ট্রি স্কি অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। পরিবার ও স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা সবাই অভিজ্ঞ স্কিয়ার ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ নিয়েই অভিযানে গিয়েছিলেন। পাহাড়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই তাদের এই যাত্রা।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন লিজ ক্ল্যাবাঘ ও ক্যারোলিন সেকার নামে দুই বোন। অন্য চার বান্ধবী হলেন ক্যারি অ্যাটকিন, ড্যানিয়েল কিটলি, কেট মোর্স ও কেট ভিট। তারা আইডাহো ও ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়া অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে স্কি অভিযানে অংশ নেওয়া ছিল তাদের নেশা ও বন্ধুত্বের বন্ধন।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার সকালে, যখন দলটি অভিযান শেষে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হঠাৎ করেই পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ফুটবল মাঠের সমান বিশাল তুষারস্তর তাদের ওপর ধসে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো এলাকা ঘন বরফস্তূপে ঢেকে যায় এবং তারা বরফের নিচে চাপা পড়েন।
বিপদসংকেত পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়। তবে প্রবল তুষারঝড়, দমকা হাওয়া ও শূন্যের কাছাকাছি দৃশ্যমানতার কারণে উদ্ধারকাজে বিলম্ব ঘটে। কয়েক ঘণ্টা পর উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেন। ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও বাকি নয়জনের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নেভাদা কাউন্টি শেরিফ দপ্তর জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থল এখনও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় সব মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি। অন্তত একজনকে এখনো নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। নিরাপত্তা নির্দেশনা যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কিনা এবং কোনো অবহেলা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুষারস্তরের অস্থিতিশীলতা বেড়েছে, যা পাহাড়ি এলাকায় অভিযাত্রীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।
উদ্ধার হওয়া জীবিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তুষারধসের পর তারা কয়েক ঘণ্টা একটি ত্রিপলের নিচে আশ্রয় নিয়ে সাহায্যের অপেক্ষায় ছিলেন। চারদিকে শুধু বরফ আর নীরবতা, তার মধ্যেই তারা বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যান।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। স্বজনেরা বলছেন, তারা শুধু দক্ষ স্কিয়ারই ছিলেন না, পরিবারে ছিলেন নিবেদিত প্রাণ মা, বোন ও স্ত্রী। যে পাহাড় তাদের আনন্দ দিত, সেই পাহাড়ই শেষ পর্যন্ত তাদের প্রাণ কেড়ে নিল।
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ঝুঁকির কঠিন বাস্তবতা আবারও সামনে এনে দিল সিয়েরা নেভাদার এই ট্র্যাজেডি।
সূত্র: সিএনএন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au