ট্রাম্পের বাসভবনে প্রবেশের চেষ্টা, গুলিতে নিহত অস্ত্রধারী সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে
মেলবোর্ন, ২৩ ফেব্রুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার এ লাগো বাসভবনে অস্ত্রসহ অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টাকালে এক যুবক নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস। ঘটনার সময় ট্রাম্প বাসভবনে ছিলেন না। তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থান করছিলেন।
সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি বাসভবনের সুরক্ষিত সীমানার ভেতরে ঢুকে পড়লে তাকে থামানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি নির্দেশ অমান্য করে সামনে এগোতে থাকলে একপর্যায়ে এজেন্টরা গুলি চালাতে বাধ্য হন। ঘটনাস্থলেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর কেউ হতাহত হননি।
নিহত যুবকের নাম অস্টিন টি মার্টিন বলে জানিয়েছে বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস। তিনি উত্তর ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যের ক্যামেরন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে উত্তর ক্যারোলিনায় বসবাসকারী তার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, মার এ লাগোর উত্তর দিকের ফটকের কাছে ওই যুবককে একটি শটগান ও একটি জ্বালানির পাত্র বহন করতে দেখা যায়। সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ভোরের দিকে সুরক্ষিত এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করতে দেখে এজেন্টরা তার ওপর গুলি চালান।
পাম বিচ কাউন্টির শেরিফ রিক ব্র্যাডশ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রথমে অস্ত্রধারী যুবককে থামতে এবং হাতে থাকা জিনিসপত্র ফেলে দিতে বলা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুবকটি প্রথমে জ্বালানির পাত্রটি নামিয়ে রাখলেও পরে শটগানটি সামনে তাক করে ধরেন। এ অবস্থায় সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা গুলি চালান। তবে বন্দুকটিতে গুলি ভরা ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এফবিআই।
ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের শরীরে বডি ক্যামেরা লাগানো ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে পুরো ঘটনাটি রেকর্ড হয়েছে। ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এফবিআই ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র ব্রেট স্কিলস বলেন, ঘটনাস্থলটি প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিসের নিয়ন্ত্রিত একটি সুরক্ষিত এলাকা। এফবিআই সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছেন এবং নিহত ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্যও তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত অস্টিন টি মার্টিনের বিরুদ্ধে আগে এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফ্লোরিডায় ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে পূর্ববর্তী বন্দুক হামলার সঙ্গেও তার কোনো সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি যে অস্ত্রটি নিয়ে বাসভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন, সেটি উত্তর ক্যারোলিনা থেকে ফ্লোরিডা যাওয়ার পথে কেনা হয়েছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর সিক্রেট সার্ভিসের পরিচালক শন কারান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি এজেন্টদের আরও সতর্ক থাকার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান।
মার এ লাগো যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। বাসভবনটিতে দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। বাইরের অংশে স্থানীয় পুলিশ নিরাপত্তা দেয় এবং ভেতরের অংশে দায়িত্ব পালন করেন সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা। দর্শনার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে তল্লাশি করা হয়। গাড়ি ও মালপত্র পরীক্ষা করা হয় প্রশিক্ষিত কুকুর ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে।
অতীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ায় এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুলি তার কান ছুঁয়ে চলে যায় এবং তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। ওই ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত ও আরও অন্তত দুজন আহত হন। হামলাকারী থমাস ম্যাথিউ ক্রুকস নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন।
এর কয়েক মাস পর ওয়েস্ট পাম বিচে ট্রাম্পের গলফ ক্লাবের ঝোপের মধ্যে একটি রাইফেল পাওয়া যায়। অভিযুক্ত রায়ান রাউথ পালিয়ে গেলেও পরে গ্রেপ্তার হন। প্রেসিডেন্টকে হত্যাচেষ্টার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৫৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান।
সাম্প্রতিক এই ঘটনায় মার এ লাগোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিহত যুবকের উদ্দেশ্য বা সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে রাজি হননি কর্মকর্তারা।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা