আংশিক খুলছে কাতারের আকাশপথ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংকারে লাখো ইসরায়েলি
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কাতার সীমিত পরিসরে তাদের আকাশপথ আবার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।…
মেলবোর্ন, ২৩ ফেব্রুয়ারি: ক্ষমতার ইচ্ছামত ব্যবহার করে, গণতন্ত্রের নাম করে কিভাবে ইউনুস সরকার একটি দেশকে কিভাবে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছেন তার জীবন্ত উদাহরণ সাম্প্রতিক সময়ে দেওয়া রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার। রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকারটি পরিষ্কারভাবে একটি রাষ্ট্রের ভেতরে সাংবিধানিক শৃঙ্খলা কীভাবে ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল তার একটি ভয়াবহ দলিল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে শাসনামল গিয়েছে, সেই সময় রাষ্ট্রপতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আড়ালে রাখা, সংবিধানসম্মত সমন্বয় না করা এবং একের পর এক অধ্যাদেশ জারি করার অভিযোগ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য সন্দেহে উদ্বেগজনক বার্তা।
সংবিধান কোনো ব্যক্তির ইচ্ছামতো ব্যবহার করার দলিল নয়। রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টা বিদেশ সফর শেষে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বারবার লঙ্ঘন করেছেন। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় চুক্তি সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতিকে অবগত না রাখা হয়েছে। এটি শুধু শিষ্টাচারবহির্ভূত নয়; এটি সংবিধান অবজ্ঞার নামান্তর।
ইউনূসের নামে এই অপরাধে হলেও রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করে তাকে এখনই জেলে নিয়ে যাওয়া উচিত। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা বর্তমান বিএনপি সরকারের একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। তার আমলে যতগুলো হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে এর প্রত্যেকটি দায়িত্ব অন্তবর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে তাকে নিতে হবে।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের অপচেষ্টা করা। একজন প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতির স্থানে বসানোর উদ্যোগ কেবল ক্ষমতার অপব্যবহার হয়নি; ইউনুস – আসিফ নজরুল গং এটি সরাসরি সাংবিধানিক অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা করেছেন।
তাদের জারি করা ইনডেমিনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে তাদের সবাইকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা উচিত। গণতন্ত্রের নামে গত দেড় বছরের শাসনামল বাংলাদেশের যে ভয়াবহ ক্ষতি করে গেছে তা শ্বেতপত্র আকারে প্রকাশ করলে ইতিহাসের একটি অন্যতম অধ্যায় হিসেবে থেকে যাবে। যতদিন ক্ষমতায় ছিলেন অন্তবর্তী কালীন সরকারের উপদেষ্টারা প্রতিনিয়ত যে নোংরা মানসিকতা দেখিয়েছেন তা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্য ভয়ংকর দৃষ্টান্ত।
পুরো সাক্ষাৎকারটি পড়ে জানা গেল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের অসহিষ্ণু প্রতিক্রিয়ায় প্রেস সেক্রেটারি, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রেস সেক্রেটারিকে প্রত্যাহার করা হয়। এমনকি দীর্ঘদিন কর্মরত দুই ফটোগ্রাফারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে বঙ্গভবনের প্রেস উইং পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে কোনো প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া যায় না, জাতীয় ক্রীড়া দলের সাফল্যে অভিনন্দন জানানো পর্যন্ত সম্ভব হয় না।
শুধু তাই নয়, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে প্রকাশিত রাষ্ট্রীয় ক্রোড়পত্র থেকেও রাষ্ট্রপতির ছবি ও বাণী বাদ দেওয়া হয়েছে। ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হচ্ছে, কিন্তু রাষ্ট্রপতির বক্তব্য নেই।
রাষ্ট্রপতিকে জনপরিসর থেকে পরিকল্পিতভাবে বিচ্ছিন্ন করার ধারাবাহিক কু-প্রচেষ্টা, বিদেশ সফর আটকে দেওয়া, রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যানের প্রস্তুত চিঠিতে জোর করে সই করাতে চাপ দেওয়া, বিভিন্ন হাইকমিশন থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি নামিয়ে ফেলা, এমনকি বঙ্গভবনের প্রেস উইং কার্যত ভেঙে দেওয়া- এসব কিছুই আলাদা আলাদা ঘটনা নয়; এগুলো মিলেই রাষ্ট্রপতিকে ‘অদৃশ্য’ করার একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রকল্পের ইঙ্গিত। জনগণের সামনে রাষ্ট্রপতিকে এভাবে অপ্রাসঙ্গিক করে তোলার শয়তানের শয়তানি চিন্তা থেকে এসেছে বলা যায়।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে এভাবে ‘মৌন’ করে দেওয়ার এই অপচেষ্টা কি স্পষ্টতই সংবিধানবহির্ভূত নয়? আর যদি তাই হয়, তবে এসব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা যাবে না কেন?
আজ না হোক, বহু বছর পর হলেও এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে এই বিশ্বাস রাখতেই চাই। সেই দিন দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে এ প্রত্যাশা।
ড. প্রদীপ রায়,
সম্পাদক, ওটিএন বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au