শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সময় সঙ্গে থাকতে পারেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সময় তাঁর সঙ্গে একদল আন্তর্জাতিক স্বাধীন পর্যবেক্ষককে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের…
মেলবোর্ন, ৪ মার্চ- ইরানে হামলার জন্য নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন। তিনি হুমকি দিয়েছেন, স্পেনের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্য বন্ধ করা হবে এবং কোনো সম্পর্ক রাখতে চাইছেন না।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “স্পেন ভয়াবহ আচরণ করেছে। আমি অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে বলেছি স্পেনের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করতে। আমরা স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেব। তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না।”
এর আগে স্পেন সরকার স্পষ্ট জানিয়েছিল, ইরানে হামলায় তারা তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার দেবে না। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ১৫টি উড়োজাহাজ ও রিফুয়েলিং ট্যাংকার স্পেনের রোটা ও মোরন সামরিক ঘাঁটি থেকে সরিয়ে নেয়।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, স্পেন ন্যাটোর প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতিও পূরণ করেনি। তিনি বলেন, “স্পেনের এমন কিছুই নেই যা আমাদের প্রয়োজন। স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের ব্যবসা বন্ধ করার অধিকার আমার আছে। আমি অবরোধ দিতে পারি, যা খুশি করতে পারি।”
তবে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে স্পেনের সঙ্গে আলাদাভাবে কোনো বৈরী আচরণ করা যাবে না। তিনি বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে আলোচনা করলে একসঙ্গে করব, না হলে করব না। স্পেনের সঙ্গে আলাদা করে খারাপ আচরণ করা হবে তা আমরা মানব না।”
বৈঠকে ট্রাম্প তার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের মতামতও নিয়েছেন। বেসেন্ট জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) আইনের অধীনে প্রেসিডেন্টের অবরোধ আরোপের ক্ষমতা বজায় রেখেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইউএসটিআর দেখবে, কীভাবে অন্যান্য বাণিজ্য আইনের আওতায় স্পেনকে শাস্তি দেওয়া যায়।
স্পেনের সরকারও বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই মুক্ত বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। মাদ্রিদ জানিয়েছে, সম্ভাব্য বাণিজ্য অবরোধ মোকাবিলার সক্ষমতা তাদের রয়েছে এবং কোনো খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে সহায়তা করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্পেন বিশ্বের শীর্ষ জলপাই তেল রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির যন্ত্রাংশ, ইস্পাত ও রাসায়নিক পণ্য রপ্তানি করায় ট্রাম্পের শাস্তির প্রভাব অন্য ইউরোপীয় দেশের তুলনায় কিছুটা কম পড়বে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র-স্পেন বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ৪.৮ বিলিয়ন ডলার; সেই বছর যুক্তরাষ্ট্র স্পেনে ২৬.১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি ও ২১.৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।
এর আগে স্পেনের বামপন্থী প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইসরায়েলের উদ্দেশে পাঠানো অস্ত্রবাহী জাহাজ তার দেশের বন্দরে নোঙর করতে না দিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au