২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ট্যাংকার, আরও আসবে চারটি
মেলবোর্ন, ৯ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর ১০ দিনের মাথায় ২৭ হাজার টনের বেশি ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে। আজ সোমবার সিঙ্গাপুর থেকে…
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট ভেন্যু। প্রায় এক লাখ ৩২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামেই ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্বাগতিক ভারতকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া ভরা গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার সেই জয়ের স্মৃতি এখনও টাটকা ভারতের সমর্থকদের কাছে।
তিন বছর পর আবারও একই মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল। এবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিক হওয়ায় ভারতকে ফেভারিট ধরা হলেও কিউইরা বড় মঞ্চে চমক দেখানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারও আশাবাদী, প্রয়োজনে ভরা গ্যালারিকে নীরব করে দিয়েই শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছেন তারা।
এই ফাইনাল ঘিরে দুদলের সামনেই ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাগতিক দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। একই সঙ্গে কোনো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি এবং কোনো দল দুবারের বেশি শিরোপাও জিততে পারেনি। ভারত যদি আজ জয় পায়, তবে তিনটি রেকর্ডেই প্রথম দল হিসেবে নাম লেখাবে তারা।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের জন্য এটি হতে পারে নতুন ইতিহাসের সূচনা। সাদা বলের ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বকাপ জেতেনি কিউইরা। ২০১৫ ও ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২১ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ—এই তিনবারই ফাইনালে উঠেও শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে তাদের। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ সামনে।
ফাইনালে ওঠার পথে নিউজিল্যান্ড ইতিমধ্যেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েছে। সেমিফাইনালে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকাকে নয় উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছায় তারা। ওই ম্যাচে ফিন অ্যালেন মাত্র ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করে আলোচনায় আসেন। তবে ভারতের জন্য আরও বড় দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে অতীতের পরিসংখ্যান। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলেও একটিতেও জিততে পারেনি ভারত।
স্বাগতিক হিসেবে তুমুল প্রত্যাশার চাপ সামলানোই ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবু দলটির শক্তির গভীরতা ফাইনালে ওঠার পথেই দেখা গেছে। ব্যাটিংয়ে অভিষেক শর্মা এবং বোলিংয়ে বরুণ চক্রবর্তীর মতো শীর্ষ খেলোয়াড়েরা প্রত্যাশিত ছন্দে না থাকলেও দল হিসেবে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে ভারত।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দারুণ এক ওভার করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন জাসপ্রিত বুমরা। অন্যদিকে ব্যাট হাতে শেষ দুই ম্যাচে প্রায় একাই দলের ভরসা হয়ে উঠেছেন সঞ্জু স্যামসন। সেমিফাইনালের আগে দুটি ম্যাচে যথাক্রমে অপরাজিত ৯৭ এবং ৮৯ রান করেছেন তিনি। ফাইনালের আগে স্যামসন বলেন, দলের জয়ের জন্যই তিনি খেলতে চান।
তার ভাষায়, “সত্যি বলতে সেঞ্চুরি নিয়ে আমার কোনো চিন্তা নেই। আরেকটা বড় ইনিংস খেলে যদি ভারতকে শিরোপা এনে দিতে পারি, সেটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ হবে। শেষ ধাপটাই সব সময় সবচেয়ে কঠিন।”
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারও জানেন, ফাইনালে তাদের ফেভারিট ধরা হচ্ছে না। তবু বড় দলের বিরুদ্ধে চমক দেখানোর লক্ষ্যই তাদের সামনে।
স্যান্টনার বলেন, “আমরা ফেভারিট নই, এটা সবাই জানে। কিন্তু কিছু হৃদয় ভেঙে যদি ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরতে পারি, সেটা দারুণ অনুভূতি হবে। গ্যালারির গর্জন থামিয়ে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। দক্ষিণ আফ্রিকার পর আরেকটি বড় দলকে হতাশ করতে পারলে যেকোনো কিছু সম্ভব।”
ফাইনাল ম্যাচটি হবে লাল ও কালো মাটির মিশ্রণে তৈরি ব্যাটিং সহায়ক পিচে। তবে পেসারদের জন্যও কিছুটা সহায়তা থাকতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব কম। তবুও আয়োজকেরা রিজার্ভ ডে রেখেছে। দুই দিন মিলিয়েও যদি অন্তত ১০ ওভারের ম্যাচ সম্পন্ন করা না যায়, তবে প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী দুই দলকে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au