অভিষেকেই ৪৭ বছর রেকর্ড ভাঙলেন ভারতীয় ক্রিকেটার
মেলবোর্ন, ৯ জুন- ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন স্পিন যুগের সূচনা হতে পারে মানব সুথারের হাত ধরেই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজের অভিষেক টেস্ট ম্যাচেই দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়ে ৪৭…
মেলবোর্ন, ৯ জুন- পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতা কেন্দ্রকে ঘিরে বহুল আলোচিত তৃণমূল কংগ্রেস নেতা জাহাঙ্গীর খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার নেপালে পালানোর চেষ্টা করার সময় শিলিগুড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স তাকে আটক করে। পরে তাকে শিলিগুড়ি আদালতে হাজির করা হয় এবং কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে তদন্তকারী সংস্থা।
জাহাঙ্গীর খান চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন। গত ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ভোটের দিন তিনি ও তার অনুসারীরা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) বিভিন্ন প্রতীকের ওপর সেলোটেপ লাগিয়ে ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশন ফলতা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে এবং ২১ মে পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। এরই মধ্যে ৪ মে প্রকাশিত নির্বাচনের ফলাফলে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস বড় ব্যবধানে বিজেপির কাছে পরাজিত হয়।
নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন জাহাঙ্গীর খান। শুরুতে আদালত তাকে নিরাপত্তা দিলেও পরে সেই সুরক্ষা প্রত্যাহার করা হয়। একই সময়ে ফলতার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সেখানে যান উত্তর প্রদেশের আলোচিত আইপিএস কর্মকর্তা ও ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবে পরিচিত অজয় পাল শর্মা।
সেই সময় জাহাঙ্গীর খানকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অজয় পাল শর্মাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন এবং নিজেকে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র চরিত্র ‘পুষ্পা’র সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “আপনি দাবাং হলে আমি পুষ্পা হব।” তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে পুনর্নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে হঠাৎ করেই নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন জাহাঙ্গীর খান। তিনি দাবি করেছিলেন, নতুন মুখ্যমন্ত্রী ফলতা অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করায় তিনি ভোটের ময়দান ছাড়ছেন। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান আইনি চাপ ও তদন্তের কারণেই তিনি নিজেকে আড়ালে সরিয়ে নিয়েছিলেন।
পুনর্নির্বাচনে ফলতা আসনে বড় ব্যবধানে জয় পায় বিজেপি। দলটির প্রার্থী এক লাখ নয় হাজারের বেশি ভোট পান। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিপিএম প্রার্থী পান ৪০ হাজারের বেশি ভোট। অন্যদিকে জাহাঙ্গীর খান পান মাত্র ৭ হাজার ৭৮৩ ভোট।
সোমবার তার গ্রেপ্তারের খবর ফলতায় পৌঁছানোর পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুব্ধ কিছু লোক জাহাঙ্গীর খানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
পুলিশ জানিয়েছে, জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। রাজনৈতিক মহলে আলোচিত এই গ্রেপ্তার পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনী সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au