মেলবোর্ন, ৮ জুন- গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত হামলার বেশিরভাগ ঘটনাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল, সাম্প্রদায়িক নয় বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগগুলোর তদন্তে দেখা গেছে, অধিকাংশ ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ ও প্রতিশোধমূলক উদ্দেশ্য কাজ করেছে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এর আগে দাবি করেছিল, ২০২৪ সালের ৪ আগস্টের পর দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এক হাজার ৭৬৯টি হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সংখ্যালঘুদের জীবন, সম্পদ ও উপাসনালয়ের ওপর মোট দুই হাজার ১০টি আক্রমণের অভিযোগ তুলে সংগঠনটি।
ঐক্য পরিষদের দেওয়া অভিযোগের তালিকা পর্যালোচনা করে পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৬২টি মামলার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং এসব মামলায় ৩৫ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে এক হাজার ২৩৪টি ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রকৃতির বলে শনাক্ত করা হয়েছে। বিপরীতে মাত্র ২০টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া ১৬১টি অভিযোগ তদন্তে মিথ্যা বা ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঐক্য পরিষদের দাবি করা মোট ঘটনার মধ্যে এক হাজার ৪৫২টি বা প্রায় ৮২ দশমিক ৮ শতাংশ ঘটনা সংঘটিত হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, যেদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। এছাড়া ৪ আগস্ট ৬৫টি এবং ৬ আগস্ট ৭০টি ঘটনার অভিযোগ পাওয়া যায়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঐক্য পরিষদের অভিযোগের বাইরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার আরও ১৩৪টি অভিযোগ পেয়েছে তারা। এসব অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৬৫ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের থানায় অভিযোগ দায়েরের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে মামলা, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও অন্যান্য আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
পুলিশের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকার দেশে যেকোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলার বিষয়ে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীরা মনে করেন, হামলার প্রকৃতি রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক যাই হোক না কেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্যদিকে সরকারের দাবি, প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।