হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ
মেলবোর্ন, ৯ জুন- হামের টিকা আমদানিতে গাফিলতি ও বিলম্বের কারণে শিশু মৃত্যুর অভিযোগে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ…
মেলবোর্ন, ৯ জুন- গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার চারবারের নির্বাচিত সাবেক মেয়র ও গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি আনিছুর রহমানের জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছে। জনপ্রিয় এই রাজনৈতিক নেতার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন। স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, প্রায় অর্ধলাখ মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় তার জানাজা।
সোমবার (৮ জুন) বেলা সোয়া ১১টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার মাধখলা গ্রামের নিজ বাড়ির পাশে অবস্থিত মাধখলা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন রাজনৈতিক সহকর্মী, বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শ্রমিকসহ সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জানাজা শুরুর অনেক আগে থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ মাঠে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে পুরো মাঠ ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। প্রিয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দলমত নির্বিশেষে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এর আগে রোববার (৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে আনিছুর রহমানের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তার বাড়িতে ভিড় করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীরা স্মৃতিচারণ করে তার অবদানের কথা তুলে ধরেন।
জানাজার আগে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্য দেন গাজীপুর জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পীরজাদা মাওলানা এস এম রুহুল আমীন, শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব, সদস্য সচিব খায়রুল কবির মণ্ডল আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আক্তারুল আলম মাস্টার, শ্রীপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সরকার, সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারী, গাজীপুর জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক এস এম আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, আনিছুর রহমান শুধু একজন রাজনীতিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক। স্থানীয় উন্নয়ন, শিক্ষা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার কারণে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।
জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এদিকে আনিছুর রহমানের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে তার ছোট বোন রাশিদা খাতুন অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদ শুনে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে মাওনা চৌরাস্তার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় আরও শোকের আবহ তৈরি হয়। আনিছুর রহমানের জানাজা শেষে একই মাঠে তার বোন রাশিদা খাতুনেরও জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়দের মতে, শ্রীপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনো নেতার জানাজায় সাম্প্রতিক সময়ে এত বিপুল মানুষের উপস্থিতি খুব কমই দেখা গেছে। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au