২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ট্যাংকার, আরও আসবে চারটি
মেলবোর্ন, ৯ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর ১০ দিনের মাথায় ২৭ হাজার টনের বেশি ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে। আজ সোমবার সিঙ্গাপুর থেকে…
মেলবোর্ন, ৯ মার্চ- টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের শিরোপা জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন দুই তারকা ক্রিকেটার। পুরো আসরে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে টুর্নামেন্টসেরা হয়েছেন সঞ্জু স্যামসন, আর ফাইনালে অসাধারণ বোলিং করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন জসপ্রীত বুমরাহ। বিশ্বকাপ জয়ের পর দুজনই নিজেদের পারফরম্যান্স ও দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।
দু’বছর আগেই বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন সঞ্জু
ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন সঞ্জু স্যামসনের মনে জন্মেছিল দু’বছর আগে। সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়েছে এবার। শুধু দলের শিরোপা জয়ের অংশই নন, পুরো টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটারও হয়েছেন তিনি। পুরস্কার নিতে গিয়ে সঞ্জু জানান, কঠিন সময়ে তাঁকে সাহস ও পরামর্শ দিয়ে পাশে ছিলেন ক্রিকেট কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকর।
২০২৪ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলে সদস্য ছিলেন সঞ্জু স্যামসন। তবে সেই আসরে একটি ম্যাচও খেলার সুযোগ পাননি তিনি। দল ট্রফি জিতলেও নিজের ভেতরে অপূর্ণতা রয়ে গিয়েছিল। সেই কারণেই বিশ্বকাপ জয়ের রাতেই নিজের কাছে একটি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তিনি—একদিন নিজের পারফরম্যান্সে দেশকে বিশ্বকাপ জেতাবেন।
দু’বছর পর সেই স্বপ্নই সত্যি হয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলেই ৩২১ রান করেছেন সঞ্জু। টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। পুরো আসরে সবচেয়ে বেশি ২৪টি ছক্কাও এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। বিশেষ করে শেষ তিন ম্যাচে টানা ৯৭, ৮৯ ও ৮৯ রান করে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। ধারাবাহিক এই পারফরম্যান্সের জন্যই টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার ওঠে তাঁর হাতে।
পুরস্কার নিতে গিয়ে দুই বছর আগের স্মৃতির কথা তুলে ধরেন সঞ্জু। তিনি বলেন, “স্বপ্নপূরণ হয়েছে। সত্যি বলতে, এই স্বপ্নটা আমি দেখেছিলাম দু’বছর আগে। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলাম, কিন্তু একটা ম্যাচও খেলার সুযোগ পাইনি। তখন থেকেই মনে মনে ঠিক করেছিলাম, একদিন নিজের পারফরম্যান্সে দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে চাই।”
তবে এই প্রত্যাবর্তনের পথ সহজ ছিল না। বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে সুযোগ পেলেও ভালো করতে পারেননি সঞ্জু। ফলে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেলেও প্রথম একাদশে তাঁর খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
শুরুর দিকেও সেটাই দেখা যায়। ওপেনিংয়ে খেলেন অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিশন। কিন্তু ধারাবাহিক ব্যর্থতায় দলে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন কোচ গৌতম গম্ভীর। সেই সময় রিঙ্কু সিংহের বদলে সুযোগ পান সঞ্জু স্যামসন।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে সুযোগ পেলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। তবে এরপরই বদলে যায় চিত্র। শেষ তিন ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে বড় রান করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন সঞ্জু।
কঠিন সময়ের কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। সঞ্জু বলেন, “নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর আমি ভেঙে পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিল সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। বুঝতে পারছিলাম না কী করব। কিন্তু হয়তো ঈশ্বরের অন্য পরিকল্পনা ছিল। আবার সুযোগ পেলাম, আর এবার আর সেই সুযোগ নষ্ট করতে চাইনি।”
এই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার পেছনে সতীর্থ, কোচ ও পরিবারের পাশাপাশি বিশেষভাবে একজনের নাম উল্লেখ করেন সঞ্জু—সচিন তেন্ডুলকর।
তিনি বলেন, “সচিন স্যারের সঙ্গে আমার সব সময় যোগাযোগ ছিল। যখনই বাইরে বসে থেকেছি বা খেলার সুযোগ পাইনি, তখনই তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে অনেক সাহস দিয়েছেন। এমনকি গতকালও স্যার আমাকে ফোন করে জানতে চেয়েছেন, আমার মনের মধ্যে কী চলছে। সচিন স্যার যেভাবে আমাকে সাহায্য করেছেন, তা ভাষায় বোঝানো কঠিন।”
ফাইনালে বুমরাহর জাদু, ঘুচল পুরোনো আক্ষেপ
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের জয়ের আরেক নায়ক জসপ্রীত বুমরাহ। মাত্র ১৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ফাইনালের ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ভারতের এই পেসার।
গুজরাটের মাটিতে ক্রিকেট খেলেই বড় হয়েছেন বুমরাহ। সেই গুজরাটেই বিশ্বকাপ ফাইনালে ম্যাচসেরা হওয়াটা তাঁর কাছে বিশেষ অনুভূতির। পাশাপাশি ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দও তাঁর কাছে অন্যরকম।
২০২৩ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি ভারত। সেই হতাশা এবার দূর হয়েছে। তাই এবারের জয় তাঁর কাছে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ বলে জানিয়েছেন তিনি।
পুরস্কার নেওয়ার সময় বুমরাহ বলেন, “এই জয় আমার কাছে খুবই বিশেষ। এর আগে ঘরের মাঠে একটা বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছিলাম, কিন্তু জিততে পারিনি। আজ সেই আক্ষেপটা মিটেছে।”
ফাইনালের উইকেট ব্যাটিং সহায়ক ছিল বলেও জানান তিনি। তাই পরিস্থিতি বুঝে অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছিলেন।
বুমরাহ বলেন, “জানতাম উইকেটটা ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। তাই নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করার চেষ্টা করেছি।”
বিশ্বকাপের আগে নিজের বোলিংয়ে কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। তবে টুর্নামেন্ট চলাকালে অতিরিক্ত কিছু করার চেষ্টা করেননি।
তিনি বলেন, “প্রতিযোগিতা শুরুর আগে ভালো বল করছিলাম, কিন্তু অনেক নতুন কিছু চেষ্টা করছিলাম। বিশ্বকাপে এসে সিদ্ধান্ত নিই, বাড়তি কিছু করব না। নিজের শক্তির জায়গাগুলোতেই ভরসা রাখব। সেটাই কাজে দিয়েছে।”
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনালে ম্যাচসেরা হওয়াকে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন বুমরাহ।
তিনি বলেন, “ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা, আর সেই ম্যাচে সেরা হওয়া—এর চেয়ে ভালো অনুভূতি আর কী হতে পারে? এখানে অনেক ক্রিকেট খেলেছি, তাই পরিস্থিতিটা ভালো বুঝতে পেরেছি।”
এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকার করেছেন বুমরাহ। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১৪টি উইকেট। সমান সংখ্যক উইকেট নিয়েছেন বরুণ চক্রবর্তীও। তবে বুমরাহ একটি ম্যাচ কম খেলেছেন এবং উইকেট পিছু রানও খরচ করেছেন তুলনামূলক কম।
ভারতের এই পেসার আরও বলেন, দলের ক্রিকেটাররা মাঠে অতিরিক্ত চাপ নেন না। বরং ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দলকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন।
বুমরাহর ভাষায়, “আমরা আতঙ্কের মধ্যে থাকি না। সব সময় ভাবি দলকে কীভাবে সাহায্য করা যায়। শেষ পর্যন্ত আমরা জিতেছি, আর সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au